আগরতলা, ৭ মে : সপ্তম শ্রেণির গণিত পাঠ্যপুস্তকে ‘নবগ্রহ যন্ত্র’-এর চিত্র ও ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই চিত্র ও ব্যাখ্যাকে “অবৈজ্ঞানিক” আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার এসসিইআরটি দফতরের অধিকর্তার কাছে ডেপুটেশন জমা দিল ত্রিপুরা যুক্তিবাদ বিকাশ মঞ্চ।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসসিইআরটি অনুমোদিত সপ্তম শ্রেণির গণিত বইয়ের প্রচ্ছদ এবং ভেতরে ‘নবগ্রহ যন্ত্র’-এর চিত্র ও ব্যাখ্যা রাখা হয়েছে, যা ছাত্রছাত্রীদের কাছে ভুল বৈজ্ঞানিক ধারণা পৌঁছে দিতে পারে। এদিন ডেপুটেশনের সঙ্গে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদের সংগৃহীত স্বাক্ষরের প্রতিলিপিও এসসিইআরটি অধিকর্তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ত্রিপুরা যুক্তিবাদ বিকাশ মঞ্চের সম্পাদক সৈকত কুমার রায় জানান, গণিতের ‘তিন সংখ্যার ম্যাজিক বর্গ’-এর ইতিহাস শেখানোর নামে বইটিতে এমন একটি চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা আধুনিক বিজ্ঞান ও সৌরজগতের বাস্তব ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর অভিযোগ, ওই চিত্রে রাহু ও কেতুকে গ্রহ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যদিও এদের কোনও বাস্তব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অস্তিত্ব নেই। পাশাপাশি সূর্য ও চাঁদকেও গ্রহ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল।
তিনি বলেন, “সপ্তম শ্রেণির কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা এই ধরনের বিষয় পড়ে বিভ্রান্ত হতে পারে এবং কুসংস্কারের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। গণিত বইয়ের মধ্যে এ ধরনের অবৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সংগঠনের দাবি, অবিলম্বে বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে সংশ্লিষ্ট চিত্র সরিয়ে ফেলতে হবে এবং পাঠ্যবইয়ের ভেতরের ভুল ব্যাখ্যাও সংশোধন করতে হবে। একই সঙ্গে সৌরজগত সম্পর্কে যে ভ্রান্ত ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, তা ভুল বলে সরকারিভাবে স্বীকার করার দাবিও জানানো হয়েছে।
সৈকত কুমার রায় আরও জানান, এসসিইআরটি অধিকর্তা তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়টির যৌক্তিকতা স্বীকার করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে সংগঠনের হুঁশিয়ারি, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনে নামবে ত্রিপুরা যুক্তিবাদ বিকাশ মঞ্চ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষামহল, অভিভাবক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যেও আলোচনা ও বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।

