মাধ্যমিকে পাশের হার ৮৪.১৮%, উচ্চমাধ্যমিকে ৭৯.৩৩%
আগরতলা, ৮ মে : ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (টিবিএসই) পরিচালিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক আলিম এবং উচ্চ মাধ্যমিক ফাজিল পরীক্ষার ফলাফল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। এবছরও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক—দুই ক্ষেত্রেই পাশের হারে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
শুক্রবার পর্ষদ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সচিব জয়দীপ ভট্টাচার্য। তিনি জানান, এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১৮৪ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ২৭ হাজার ৯৪ জন পরীক্ষার্থী। ফলে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৮৪.১৮ শতাংশ।
পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, এবছর রাজ্যের ১০১০টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৬৭৯ জন এবং মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৫১৫ জন। অর্থাৎ ছেলেদের তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। ফলাফলের নিরিখেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। মাধ্যমিকে ছেলেদের পাশের হার ৮০.৪২ শতাংশ হলেও মেয়েদের পাশের হার হয়েছে ৮৪.৮৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৫০২ জন। এর মধ্যে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ১২ হাজার ৩০৭ জন এবং মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ হাজার ১৯৫ জন। এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পাশ করেছে ২১ হাজার ২৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪১১ জন এবং মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ হাজার ৬১৩ জন।
পর্ষদ সচিব জানান, এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পাশের হার ৭৯.৩৩ শতাংশ। শতাংশের নিরিখে ছেলেদের পাশের হার ৭৬.৪৭ শতাংশ হলেও মেয়েদের পাশের হার হয়েছে ৮১.৮১ শতাংশ। ফলে উচ্চ মাধ্যমিকেও মেয়েরাই সাফল্যের নিরিখে এগিয়ে রয়েছে।
এদিন অন্যান্য বছরের মতো মাধ্যমিক পরীক্ষার পাশাপাশি মাধ্যমিক আলিম পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ করা হয়। মাধ্যমিক আলিম পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৫৫ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ১৪১ জন পরীক্ষার্থী। পাশের হার ৯১.৫৬ শতাংশ।
এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক ফাজিল আর্টস ও ফাজিল জুলজি পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। এই বিভাগে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৪ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ৭৯ জন। ফলে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.০৪ শতাংশ।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। বহু ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবককে স্কুল এবং অনলাইন মাধ্যমে ফলাফল জানতে দেখা যায়। এবছরের ফলাফলেও মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে শিক্ষামহলের।

