iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

বক্সনগরে বিএসএফ জওয়ানের উপর হামলা, ১০ অভিযুক্ত আদালতে, ৭ জনের পুলিশি রিমান্ড

সোনামুড়া, ৩ নভেম্বর  : সিপাহিজলা জেলার বক্সনগরে বিএসএফ জওয়ানের উপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১০ অভিযুক্তকে মঙ্গলবার সোনামুড়া আদালতে পেশ করল পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে সাতজন পুরুষকে চার দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বাকি তিন মহিলা অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বক্সনগর এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বিএসএফ জওয়ানের উপর এই হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমেও ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহাও একাধিক বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ঘটনার পর থেকেই বক্সনগরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিএসএফ ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সিপাহিজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ, টিএসআর ও বিএসএফ বাহিনী রাতভর একাধিক অভিযান চালিয়ে বক্সনগর ও বিশালগড় থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আটজনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার দিনের বেলায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বিকেল তিনটায় ১০ অভিযুক্তকে সোনামুড়া আদালতে পেশ করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও আদালত সাতজন পুরুষ অভিযুক্তকে চার দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করে। তিন মহিলা অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

গ্রেফতারদের মধ্যে বক্সনগর বিধানসভার ১৩ নম্বর বুথের বিজেপি বুথ সভাপতি ফারুক হোসেন এবং কিষাণ মোর্চার মণ্ডল কমিটির সদস্য কবির হোসেন রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া নবগঠিত মণ্ডল যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক তথা আশাবাড়ি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আল আমিন হোসেনের পরিবারের সদস্যদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল আমিনের বড় ভাই প্যারা মিয়া, বৌদি জেসমিন আক্তার, ছোট ভাই রাসেল মিয়া এবং কাকিমা সোকনতারা বেগম।

আল আমিন হোসেন স্থানীয় বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের ভাগ্নে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি সিপিআই(এম) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে উত্তর বক্সনগর জামে মসজিদে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আল আমিন হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। ওই মামলাটি বর্তমানে সোনামুড়া আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগ ছিল, বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলে বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনকে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে মসজিদে হামলা চালানো হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

উল্লেখ্য, বিএসএফ জওয়ানের উপর হামলার ঘটনাস্থল ওই মসজিদ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার উত্তরে। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।

ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে রাসেল মিয়াকে বিএসএফ জওয়ানকে মারধর, গাড়ি ভাঙচুর এবং জওয়ানের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় দেখা গেছে বলে অভিযোগ। পরে অস্ত্রটি উদ্ধার করে বক্সনগর প্রেস ক্লাবের এক সাংবাদিক বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া বিএসএফ জওয়ানের গাড়ি থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে মোবাইলটি উদ্ধার করেছে। অভিযোগ, রাসেল মিয়া মোবাইলটি তাঁর ভাই আল আমিন হোসেনের কাছে রেখেছিলেন। ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর আল আমিন হোসেন কলমচৌড়া থানায় মোবাইলটি জমা দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গ্রেফতার হওয়া লাভলী আক্তারকেও ভিডিও ফুটেজে লাঠি দিয়ে বিএসএফ জওয়ানকে আঘাত করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ। তাঁর বাংলাদেশি পরিচয় এবং জাল নথি ব্যবহার করে ভারতে বসবাসের অভিযোগও স্থানীয়দের একাংশ তুলেছেন। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা পুলিশি তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার পর স্থানীয় মহলে বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, ঘটনার দিন হামলাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তিনি একটি দলীয় বুথ অফিস উদ্বোধন করেছিলেন। এত কাছে ঘটনা ঘটলেও তিনি কোনও খোঁজখবর নেননি বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।

এমনকি ঘটনার পর বিধায়ক তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে অভিযুক্তদের আরও মারধর করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বিধায়কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বক্সনগরবাসীর দাবি, বিএসএফ জওয়ানের উপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক স্তরে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন সংগঠনও পথে নেমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *