আগরতলা, ২৪ অক্টোবর : ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দিশা নার্সিংহোম ও চিকিৎসক দেবজিত দেবনাথের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম কথিকা দেববর্মা। তাঁর বাড়ি সিপাহীজলা জেলার বিশালগড় মহকুমাধীন মধুপুর পঞ্চায়েতের পূর্ব সেনাপতিপাড়ায়। তিনি সিপাহীজলা জেলায় সরকারি কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৩ অক্টোবর জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গর্ভবতী হওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কথিকা দেববর্মার চিকিৎসা চলছিল বিশালগড়ের চিকিৎসক দেবজিত দেবনাথের তত্ত্বাবধানে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর তাঁকে দিশা নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। অভিযোগ, সেদিনই তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয় এবং তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তবে অস্ত্রোপচারের আগে সিজার করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের আগাম কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর মা ও নবজাতক দু’জনেই ভালো রয়েছে বলে নার্সিংহোমের তরফে জানানো হয়েছিল। প্রসূতিকে তিন দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলেও জানানো হয়। কিন্তু অভিযোগ, পর্যবেক্ষণে থাকার দ্বিতীয় দিনেই কথিকা দেববর্মার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দিশা নার্সিংহোম থেকে জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, কেন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলো এবং কী কারণে তাঁকে জিবিপি হাসপাতালে রেফার করা হলো, সে বিষয়ে তাঁদের স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। এরপর জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কথিকা দেববর্মা। দীর্ঘ ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৩ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে রেখে এক মায়ের এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক দেবজিত দেবনাথের গাফিলতি ও খামখেয়ালিপনার কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক দেবজিত দেবনাথ জিবিপি হাসপাতালে কর্মরত বলে দাবি করেছেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার বিষয়ে সরকারের নির্দেশের প্রসঙ্গ তুলে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, সেই নির্দেশের পরেও কীভাবে বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের কিছু চিকিৎসক বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা এলাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসকের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।
কথিকা দেববর্মার মৃত্যুর ঘটনায় প্রসূতি চিকিৎসার নিরাপত্তা, অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর পরিবারকে যথাযথ তথ্য জানানো এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে চিকিৎসার প্রতিটি পর্যায় খতিয়ে দেখা হোক। তদন্তে কোনও গাফিলতি বা বিধিভঙ্গের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এখন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা।

