আগরতলা, ১২ অক্টোবর : শারদোৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আগরতলার বোধজং উচ্চতর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। উৎসবের প্রাক্কালে এলাকার দুঃস্থ মহিলাদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা বহন করছে।
সোমবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এলাকার দুঃস্থ মহিলাদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, বিজেপি নেতৃত্ব সন্তোষ সাহা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে দুঃস্থ মহিলাদের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শারদোৎসবের আনন্দ তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নেন উদ্যোক্তারা।
এদিন বোধজং উচ্চতর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ আমাদের দীর্ঘদিনের পরম্পরা ও মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে। উৎসবের আনন্দ তখনই সার্থক হয়ে ওঠে, যখন সমাজের পিছিয়ে পড়া ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের মুখেও হাসি ফোটানো সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পাশাপাশি বোধজং উচ্চতর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও মজবুত করে।
উৎসবের মরশুমে নতুন বস্ত্র হাতে পেয়ে উপকৃত মহিলাদের মধ্যেও খুশির পরিবেশ তৈরি হয়। সাধারণত শারদ উৎসবকে ঘিরে নতুন পোশাক, আনন্দ-উৎসব ও পারিবারিক মিলনমেলার আবহ তৈরি হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবার সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকে। সেই সমস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই মানবিক প্রচেষ্টাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। তাঁদের এই উদ্যোগ আগামী দিনেও সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। শারদ উৎসবের প্রাক্কালে বোধজং উচ্চতর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও ছড়িয়ে দিল।

