iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

কুমারঘাটে ২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা

কুমারঘাট , ১২ অক্টোবর : বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ এবং রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। ঊনকোটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুমারঘাটের গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ১৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং তিনটি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই ২১টি প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪০ কোটিরও বেশি টাকা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা ও শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, ঊনকোটি জেলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, পূর্ত দফতরের সচিব অভিষেক সিং, স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে, ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক মেঘা জৈন-সহ অন্যান্য আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরু থেকেই পূর্বতন সরকার ও বিরোধীদের নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ত্রিপুরায় বিরোধীদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা করছে তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমান রাজ্য সরকার প্রতিনিয়ত উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে।

রাজ্যের রাস্তাঘাটের বেহাল দশার বিষয়টি এদিন কার্যত স্বীকার করে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তার উন্নয়ন ও মেরামতির কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে বিরোধীরা ভাঙাচোরা রাস্তার ছবি প্রচার করে রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও বর্ষার কারণে রাস্তা মেরামতির কাজে সমস্যা তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যে বাস্তব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পূর্বতন সরকারের আমলে জাতপাতের রাজনীতি চলত বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে সেই ধরনের রাজনীতি হয় না। একই সঙ্গে নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধীরা কখনও ইভিএম, কখনও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সংসদের ভিতরে ও বাইরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষা পরিষেবা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন এডিসি এলাকার বিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকলেও অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত ছাত্রছাত্রী নেই। এই পরিস্থিতিতে কিছু স্কুল বন্ধ করে সেগুলিকে আবাসিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি অন্য প্রশ্ন তুলে ধরছে। মাত্র কয়েক দিন আগেই পেঁচারথল বিধানসভা কেন্দ্রের নবীনছড়ার সরকারি স্কুলে শিক্ষকের দাবিতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হয়েছে পড়ুয়াদের। উল্লেখযোগ্য বিষয়, পেঁচারথল কেন্দ্রটি রাজ্যের মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমার বিধানসভা কেন্দ্র। একদিকে কোনও কোনও স্কুলে ছাত্রছাত্রীর অভাবের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে কোথাও শিক্ষকের দাবিতে পড়ুয়াদের আন্দোলনে নামতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিটি শিশুর কাছে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্য থেকে বহিঃরাজ্যে রোগীদের রেফার করার সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। তাঁর বক্তব্য, একসময় জিবিপি হাসপাতালে রোগীদের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হতো। বর্তমানে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোর উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা বাড়ানোর আশ্বাসও দেন তিনি।

তবে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলি স্বাস্থ্য পরিষেবার সার্বিক উন্নয়নের দাবিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। ফটিকরায়ের গ্রামীণ প্রাথমিক হাসপাতালে শয্যার অভাবে রোগীদের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পর্যাপ্ত বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিং হলে হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে থাকার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মী সংকটের কারণে পরিষেবা পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

এমন পরিস্থিতিতে শুধু শয্যার সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর আট বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই সমস্যাগুলির সার্বিক সমাধানে সরকার আর কতটা সময় নেবে, তা নিয়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এদিন ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনগরে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার চারজন সুবিধাভোগীর বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা। সরকারি আবাস যোজনার অধীনে নির্মিত নতুন বাড়িগুলি ঘুরে দেখেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর আবেদনও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

আবাস যোজনার মাধ্যমে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগকে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে প্রকল্পের উদ্বোধন, উন্নয়নের পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানই এখন সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *