কমলপুর, ১২ অক্টোবর : আট মাস ধরে প্রাপ্য বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের পথে হাঁটলেন টিআরএলএম-এর অধীনে কর্মরত সিএসপি-রা। দীর্ঘদিন কাজ করেও পারিশ্রমিক না পাওয়া এবং বারবার আশ্বাস দিয়েও বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে সোমবার(১২ অক্টোবর) সালেমা ব্লক অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিডিও-র সঙ্গে আলোচনায় আগামী দু’দিনের মধ্যে বকেয়া বিল মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, টিআরএলএম-এর অধীনে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে গেলেও গত আট মাস ধরে তাঁরা প্রাপ্য বিল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পাওনা আটকে থাকায় একদিকে যেমন তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল, অন্যদিকে তেমনই দেখা দিয়েছিল চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা। নিজেদের কাজের বিনিময়ে প্রাপ্য অর্থ পেতে বারবার আশ্বাসের উপর নির্ভর করতে হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামেন বলে জানান।
সিএসপি-দের বক্তব্য, এর আগেও বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবরের মধ্যে পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ১২ অক্টোবর পর্যন্ত অর্থ হাতে না পাওয়ায় তাঁদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। এরপরই নিজেদের দাবির সমর্থনে সালেমা ব্লক অফিসে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদে শামিল হন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘ আট মাস ধরে প্রাপ্য অর্থ আটকে থাকায় তাঁদের সংসার চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো থেকে শুরু করে পরিবারের অন্যান্য আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। নিয়মিত কাজ করার পরও কেন সময়মতো পারিশ্রমিক মিলবে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, কাজের বিনিময়ে প্রাপ্য অর্থ পাওয়া কোনও অনুগ্রহ নয়, বরং এটি তাঁদের ন্যায্য পাওনা। সেই অর্থ আদায়ের জন্য বারবার আন্দোলনের পথে নামতে হবে কেন, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিএসপি-রা।
তাঁদের আরও অভিযোগ, বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে প্রশাসনের আশ্বাসের উপর আস্থা ক্রমশ কমছিল। এবার আর মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট থাকতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি ছিল, দীর্ঘদিনের বকেয়া অর্থ দ্রুত পরিশোধের বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এদিকে, ব্লক অফিসে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন বিডিও। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। আলোচনার পর আগামী দু’দিনের মধ্যে বকেয়া বিল মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলে জানান সিএসপি-রা। এই আশ্বাসের পর আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা।
তবে আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, এর আগেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাওনা মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়াতেই পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া অর্থ হাতে না এলে সিএসপি-রা পুনরায় আন্দোলনে নামবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং সময়মতো বিল পরিশোধের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার পরও প্রাপ্য অর্থের জন্য আন্দোলনে নামতে হওয়া নিঃসন্দেহে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার উপর প্রশ্ন তুলছে। সিএসপি-দের বক্তব্য, তাঁরা কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত, তবে তার বিনিময়ে প্রাপ্য অর্থ সময়মতো পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
এখন সকলের নজর আগামী দু’দিনের দিকে। বিডিও-র আশ্বাস অনুযায়ী বকেয়া বিল পরিশোধ করা হলে আপাতত সমস্যার সমাধান হতে পারে। অন্যথায় আট মাসের পাওনা নিয়ে ফের আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আপাতত আশ্বাসে থেমেছে বিক্ষোভ, কিন্তু সিএসপি-দের চোখ এখন প্রাপ্য অর্থ হাতে পাওয়ার দিকেই।

