বক্সনগর, ২ অক্টোবর : হাসি-খুশি, প্রাণবন্ত মানুষটির এমন আকস্মিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বক্সনগরবাসী। গতকাল পর্যন্ত যিনি বাজারের দোকানে বসে পরিচিতজনদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছেন, শুক্রবার তাঁর নিথর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। সিপাহীজলা জেলার বক্সনগর বাজারের পরিচিত কাপড় ব্যবসায়ী অরুণ রুদ্রপালের মৃত্যুর ঘটনায় স্তব্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে নিজের ব্যবসা ও অন্যান্য কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন অরুণ রুদ্রপাল। তবে সম্প্রতি তিনি আর্থিক চাপ ও ঋণের বোঝায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি কতটা গভীরে পৌঁছেছিল, তা স্পষ্ট ছিল না। শুক্রবার বাড়ির অদূরে একটি ব্রিজের নিচে তাঁর নিথর দেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমান স্থানীয়রা।
পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অরুণ রুদ্রপালের মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর বক্সনগর বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরিচিত ব্যবসায়ীকে এভাবে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত ও ব্যবসায়ী সহকর্মীরাও।
স্থানীয়দের বক্তব্য, অরুণ রুদ্রপাল ছিলেন অত্যন্ত মিশুক ও হাসিখুশি স্বভাবের মানুষ। বাজারে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত দেখা হতো বহু মানুষের। ফলে তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু অনেকের কাছেই এখনও অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে। ঋণজনিত মানসিক চাপই তাঁর মৃত্যুর কারণ বলে প্রাথমিকভাবে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় অস্বাভাবিক মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে তিনি কোনও নোট বা অন্য কোনও বার্তা রেখে গিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
অরুণ রুদ্রপাল মৃত্যুর পর স্ত্রী, সন্তান, বৃদ্ধা মা, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে রেখে গেছেন। পরিচিত এই ব্যবসায়ীর আকস্মিক মৃত্যুতে বক্সনগর বাজারে নেমে এসেছে গভীর শোক। যে বাজারে প্রতিদিন তাঁর হাসিমুখে উপস্থিতি ছিল পরিচিত দৃশ্য, শুক্রবার সেই জায়গাতেই ছিল নীরবতা ও শোকের আবহ।

