বক্সনগর, ২ অক্টোবর : জীবনসংগ্রামের দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে আজ কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়া মহকুমার সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহানারা বেগম। প্রায় ২০ বছর আগে স্বামীর সঙ্গ হারানোর পর একমাত্র সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সেই থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শ্রম ও সংগ্রামকে সঙ্গী করে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে মারণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এই অসহায় নারী।
স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেন জাহানারা বেগম। সংসারের অভাব-অনটন তাঁকে কখনও দমিয়ে রাখতে পারেনি। জীবিকা নির্বাহের জন্য কখনও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, আবার কখনও বিভিন্ন বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেছেন। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি কিংবা শারীরিক ক্লান্তি—কোনও কিছুই তাঁকে কাজ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার স্বপ্নেই দিনের পর দিন পরিশ্রম করে গিয়েছেন তিনি।
কিন্তু প্রায় সাত মাস আগে তাঁর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। চিকিৎসার পর জানা যায়, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও থেরাপির পর্ব। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ ও থেরাপির প্রয়োজন হলেও তার বিপুল খরচ বহন করা ক্রমশ অসম্ভব হয়ে ওঠে। সারাজীবনের কষ্টার্জিত সামান্য সঞ্চয়ও ইতিমধ্যে চিকিৎসার পিছনে ব্যয় হয়ে গিয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন জাহানারা বেগম। অধিকাংশ সময় তাঁকে শয্যাশায়ী অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। একদিকে ক্যান্সারের যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার ব্যয়—দুইয়ের চাপে অসহায় হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে সমাজের সহৃদয় মানুষের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন জাহানারা বেগম ও তাঁর পরিবার। তাঁদের আশা, রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানবিক মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। দূরবর্তী এলাকার মানুষ যাতে সহযোগিতা করতে পারেন, সেজন্য অনলাইন মাধ্যমেও আর্থিক সহায়তা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারকে টিকিয়ে রাখা জাহানারা বেগম আজ নিজের জীবন বাঁচাতে অন্যের সহায়তার অপেক্ষায়। অর্থের অভাবে যাতে তাঁর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে না যায়, সেজন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
জাহানারা বেগমকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সহযোগিতা করতে পারেন। পরিবারের আশা, মানুষের সম্মিলিত সহায়তায় কঠিন এই সময়ে জাহানারার চিকিৎসা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে এবং তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

