iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

নেশামুক্ত ও আত্মনির্ভর পঞ্চায়েত গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিম জেলায় জেলা সভা

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর  : নেশামুক্ত, স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভর পঞ্চায়েত গড়ে তোলার লক্ষ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো জেলা সভা। বৃহস্পতিবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসকের কনফারেন্স হলে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সদস্য-সদস্যা এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পঞ্চায়েতগুলির সার্বিক উন্নয়ন, নিজস্ব আয় বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ, জল সংরক্ষণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি পঞ্চায়েতগুলিকে শুধুমাত্র সরকারি অনুদাননির্ভর না রেখে নিজস্ব সম্পদ ও উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল জানান, পঞ্চায়েতগুলিকে আরও সবুজায়নের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে স্থানীয় স্তরে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়বে এবং পঞ্চায়েতগুলি ধীরে ধীরে আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, জল সংরক্ষণও আগামী দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই পঞ্চায়েত এলাকায় জলাধার সংরক্ষণ, বৃষ্টির জল ধরে রাখা এবং জলসম্পদের সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা বাল্যবিবাহ এবং নেশার বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত স্তর থেকেই আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। পঞ্চায়েতগুলিকে নেশামুক্ত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র প্রশাসনিকভাবে পঞ্চায়েত পরিচালনা নয়, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পঞ্চায়েতকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। সবুজায়ন, পরিবেশ রক্ষা, জল সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডকে একত্রিত করে পঞ্চায়েতগুলিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এদিনের জেলা সভা থেকে বিভিন্ন পঞ্চায়েতের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগামী দিনে কীভাবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের এলাকায় স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় বাড়বে, তেমনই পরিবেশ সংরক্ষণ, জল ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় গ্রামাঞ্চলে আরও কার্যকর ভূমিকা তৈরি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *