আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর : শহরের চিত্তরঞ্জন এলাকায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তদন্তে আরও সাফল্য পেল পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার গলিয়ে ফেলার পরও তা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ গ্রাম স্বর্ণালংকার গলানো অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য সাত লক্ষাধিক টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট আগরতলা শহরের চিত্তরঞ্জন এলাকার বাসিন্দা শিশির সাহার বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চোরের দল বাড়িতে ঢুকে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ প্রায় ৭০ গ্রাম স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দেয়। ঘটনার পর পূর্ব আগরতলা থানায় অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ তদন্তে নামে।
তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে পূর্ব আগরতলা থানার এসআই তথা তদন্তকারী আধিকারিক রাকেশ দেববর্মা প্রথমে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন। তাঁর কাছ থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর তদন্তকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রযুক্তির সাহায্য নেয় পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই আমবাসা এলাকা থেকে আরও এক সন্দেহভাজন চোরকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের হদিস মেলে। তদন্তে উঠে আসে, চুরি করা স্বর্ণের একটি অংশ গলিয়ে আগরতলায় বিক্রি করার জন্য আনা হয়েছিল। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে গলানো অবস্থায় প্রায় ৫০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করে। একইসঙ্গে যে ব্যক্তির কাছে ওই স্বর্ণ বিক্রি করা হয়েছিল, তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের অনুমান, চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের একটি অংশ ইতিমধ্যেই গলিয়ে ফেলার কারণে তার আগের আকৃতি আর নেই। তবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ এবং মূল্য চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করছে তদন্তকারী দল।
এদিন পূর্ব আগরতলা থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার জানান, উদ্ধার হওয়া গলানো স্বর্ণের ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম এবং এর বাজারমূল্য সাত লক্ষাধিক টাকা। তবে চুরি যাওয়া আরও কিছু স্বর্ণালংকার এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেগুলিও দ্রুত উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
ওসি আরও জানান, তিনি সম্প্রতি পূর্ব আগরতলা থানায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার বিভিন্ন সূত্র ও গোয়েন্দা তথ্যের নেটওয়ার্ক আরও সক্রিয় করা হচ্ছে। সেই সূত্রগুলি যত আপডেট হচ্ছে, ততই বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। চিত্তরঞ্জন এলাকয় এই চুরির ঘটনায় ধারাবাহিক তদন্তের ফলেই একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারে সাফল্য মিলেছে বলে তিনি জানান।
চুরি যাওয়া বাকি স্বর্ণালংকার উদ্ধারের পাশাপাশি এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের প্রকৃত মালিকানা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

