আগরতলা, ২৮ জুলাই : তামাক ও মাদকাসক্তিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সামাজিক সংগঠনগুলিকে আরও সক্রিয় ও আন্তরিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানালেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়। তিনি বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সংগঠনগুলির নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সুস্থ, সচেতন ও নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
মঙ্গলবার আগরতলায় একটি বেসরকারি হোটেলে তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কর্মরত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে নিয়ে রাজ্যভিত্তিক কর্মশালার আয়োজন করে ভলান্টিয়ারি হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরা (ভ্যাট)। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা, ভলান্টিয়ারি হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরার সভানেত্রী ডাঃ শ্রীলেখা রায়-সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, তামাক ও মাদকদ্রব্য শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবারের এবং গোটা সমাজের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় ৪,৪৫৮ জন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী সরকারিভাবে নথিভুক্ত রয়েছেন এবং তাঁদের প্রত্যেককে সরকার প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করছে।
মন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরার মতো ছোট্ট একটি রাজ্যে এত বিপুল সংখ্যক ক্যান্সার রোগীর উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই রোগীদের একটি বড় অংশ তামাকজাত দ্রব্য সেবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। তাই তামাক ও ড্রাগসমুক্ত সমাজ গড়তে হলে সামাজিক সংগঠনগুলিকে শুধু কর্মসূচি নিলেই হবে না, আন্তরিক সংকল্প নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নেশার বিরুদ্ধে লড়াইকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তামাক ও মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে বিদ্যালয়, কলেজ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং পরিবারকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বক্তব্যে মন্ত্রী বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সমাজে এখনও অনেক ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। অথচ এর ফলে অল্প বয়সে মাতৃত্বের ঘটনা বাড়ছে, যা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। অসুস্থ শিশুর জন্মের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “বাল্যবিবাহ কমে গেলে শিশুমাতৃত্বের ঘটনাও কমবে, সুস্থ শিশুর জন্ম হবে এবং চিকিৎসা ও রক্তের প্রয়োজনও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।”
এদিন মন্ত্রী আরও দাবি করেন, রাজ্যে প্রায় ৭০ হাজার দিব্যাঙ্গ ব্যক্তি রয়েছেন এবং তাঁদের একটি বড় অংশের প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও অল্পবয়সে মাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় উপস্থিত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও তামাক ও মাদকবিরোধী প্রচারাভিযানকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও মত প্রকাশ করা হয়।

