আগরতলা, ১০ জুলাই : দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য, অনিশ্চিত কর্মজীবন এবং সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে শুক্রবার রাজ্যজুড়ে ‘কালো দিবস’ পালন করল ত্রিপুরার তিনটি প্রকল্প কর্মী সংগঠন। এদিন শ্রম দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা সরকারকে অবিলম্বে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি ও মাতৃ-শিশু কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও এখনও ন্যায্য অধিকার ও সম্মানজনক পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত রয়েছেন প্রকল্প কর্মীরা।
শুক্রবার ‘কালো দিবস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রম দফতরের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন ত্রিপুরা মিড-ডে-মিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, ত্রিপুরা আশা ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন এবং ত্রিপুরা অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড হেলপার্স ইউনিয়নের শতাধিক সদস্য। আন্দোলনকারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে এবং বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে শ্রম দফতর চত্বরে জড়ো হন। পরে স্লোগান ও প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে ছিল প্রকল্প কর্মীদের সরকারি কর্মচারীর স্বীকৃতি প্রদান, সম্মানজনক বেতন কাঠামো চালু করা, নতুন শ্রম কোড প্রত্যাহার, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পেনশন, ইএসআই, পিএফ-সহ অন্যান্য শ্রমিক কল্যাণমূলক সুবিধা চালু করা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবিও তোলা হয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও মিড-ডে-মিল কর্মীরা স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, শিশু ও মাতৃপুষ্টি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ তাঁদের অধিকাংশকেই এখনও স্বল্প সাম্মানিক বা ভাতার ওপর নির্ভর করে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে বর্তমান পারিশ্রমিকে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্প কর্মীরাই মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু তাঁদের কর্মসংস্থানের কোনও স্থায়িত্ব নেই, নেই ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কোনও নিশ্চয়তা। ফলে হাজার হাজার কর্মী ও তাঁদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সরকারকে দ্রুত প্রকল্প কর্মীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতৃত্বরা।
এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য শ্রম দফতর চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পুলিশের উপস্থিতিতে গোটা কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়। এখন প্রকল্প কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল এবং রাজ্যের হাজার হাজার প্রকল্প কর্মীর।

