আগরতলা, ২৫ জুন : আমতলি থানাধীন কাঁঠালতলি এলাকায় সমীর দাস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কাঁঠালতলি এলাকার তরুণ সংঘের সম্পাদক সমীর দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত স্বপন সূত্রধরের বাড়িতে ক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়। ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের উপস্থিতিতেই বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দেয়। অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ ঘটনার তদন্তে সক্রিয় হয় এবং ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করে।
তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন রানিরখামার এলাকার রাজু লস্কর, কাঁঠালতলি বাজার এলাকার পবন দাস, রানিরখামার এলাকার সজল দাস এবং মধুবন কাঁঠালতলি এলাকার লক্ষ্মণ মালাকার।
পুলিশ সুপার নমিত পাঠক জানান, ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও ভিডিওগ্রাফি খতিয়ে দেখে আরও কয়েকজন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
এদিকে সমীর দাস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কাঁঠালতলি এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সমীর দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত স্বপন সূত্রধরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপর দুই অভিযুক্ত হলেন সুজয় সূত্রধর ও মিঠুন সূত্রধর। বুধবার তাদের আদালতে তোলা হলে আদালত তিন অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ—উভয় ঘটনার তদন্ত সমান গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

