আগরতলা, ৬ নভেম্বর : আসন্ন পুর পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রানিরবাজারে সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী প্রস্তুতির জানান দিল শাসক দল বিজেপি। শুক্রবার বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য মিছিল ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে রানিরবাজার পুর পরিষদের ১৩টি ওয়ার্ডের বিজেপি মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। দলীয় পতাকা, স্লোগান এবং কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে এদিন কার্যত নির্বাচনী প্রচারের আবহে মুখর হয়ে ওঠে রানিরবাজার।
এদিন সকাল থেকেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মী-সমর্থকরা মিছিলে শামিল হন। পরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান ১৩টি ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থীরা। মিছিলকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিকে সামনে রেখে বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশা ব্যক্ত করা হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। মিছিলের জনসমাগম এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ দেখে তিনি আসন্ন পুর নির্বাচনে বিজেপি-র জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই আস্থার প্রতিফলন আসন্ন পুর নির্বাচনের ভোটবাক্সেও দেখা যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
একইসঙ্গে বিরোধী কংগ্রেস ও সিপিআইএমকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের কাছে কোনও সুস্পষ্ট নীতি, আদর্শ কিংবা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নেই। বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং ক্ষমতা দখল করাই বিরোধীদের একমাত্র উদ্দেশ্য। কিন্তু এই ধরনের রাজনৈতিক কৌশল রাজ্যের মানুষ কখনোই গ্রহণ করবেন না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়ন ও জনস্বার্থের প্রশ্নে বিজেপির বিকল্প হিসেবে বিরোধীরা নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
শুধু রানিরবাজার পুর পরিষদ নয়, আগরতলা পুর নিগম সহ রাজ্যের সমস্ত পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েতের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিজেপি তথা এনডিএ মনোনীত প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর কথায়, আসন্ন পুর নির্বাচন আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যত একটি সেমিফাইনাল। এই নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনে তৎপর হয়ে উঠেছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন পুর এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে। রানিরবাজারে ১৩টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়ে বিজেপি যেমন নিজেদের শক্তির জানান দিল, তেমনই প্রতিটি আসনে জয়ের প্রত্যাশা সামনে রেখে প্রচারের রণকৌশলও স্পষ্ট করল।
তবে মিছিলের জনসমাগম কিংবা নেতাদের জয়ের দাবি শেষ পর্যন্ত কতটা ভোটে প্রতিফলিত হয়, তার চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে নির্বাচনের দিন। রানিরবাজার পুর পরিষদের ১৩টি ওয়ার্ডে বিজেপির এই শক্তি প্রদর্শন ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

