আগরতলা, ১৪ জুলাই : ত্রিপুরা ট্রাফিক পুলিশের ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আইন প্রয়োগ এবং জরুরি পরিষেবার উন্নয়নের ফলে রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। মঙ্গলবার আগরতলায় নজরুল কলাক্ষেত্রে ত্রিপুরা ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত বেসরকারি যানচালক ও সহচালকদের জন্য বিশেষ চক্ষু পরীক্ষা শিবিরে এই তথ্য জানান রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক (ডিজিপি) অনুরাগ ধ্যানকর।
এদিনের শিবিরে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক, পশ্চিম জেলার ট্রাফিক সুপার কান্তা জাঙ্গীর সহ ট্রাফিক পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ডিজিপি অনুরাগ ধ্যানকর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বেসরকারি মোটর শ্রমিক, চালক ও সহচালকেরা এই চক্ষু পরীক্ষা শিবিরে অংশগ্রহণ করেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডিজিপি অনুরাগ ধ্যানকর জানান, গত কয়েক বছরে ত্রিপুরায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক পুলিশ বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ইতিবাচক ফলও মিলতে শুরু করেছে। তিনি জানান, ২০২৪ সালে রাজ্যে মোট ৫৭৮টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২৭-এ।
তিনি বলেন, “ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগএবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর ফলেই দুর্ঘটনার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।”
ডিজিপি আরও জানান, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের শারীরিক সক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই বেসরকারি যানচালক ও সহচালকদের জন্য এই বিশেষ চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চালকদের দৃষ্টিজনিত সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অন্যদিকে, পশ্চিম জেলার ট্রাফিক সুপার কান্তা জাঙ্গীর জানান, চক্ষু পরীক্ষার পর যেসব চালকের প্রয়োজন হবে, তাঁদের লেন্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, “বেসরকারি মোটর চালকদের সুরক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এই ধরনের চক্ষু শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের।”
ট্রাফিক পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন উপস্থিত বেসরকারি মোটর শ্রমিক ও চালকেরা। তাঁদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও দৃষ্টিশক্তি যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

