আগরতলা, ৫ জুন: বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধি এবং গ্রাহক পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে শুক্রবার ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (টিএসইসিএল)-এর কর্পোরেট কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করল ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিক্ষোভ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিগম কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে অবিলম্বে বর্ধিত মাসুল প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
সংগঠনের অভিযোগ, গ্রাহকদের পূর্বে অবহিত না করেই চলতি বছরের মে মাস থেকে বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধি করেছে বিদ্যুৎ নিগম। বিভিন্ন স্ল্যাবে ইউনিট প্রতি ১৫ পয়সা থেকে ২৩ পয়সা পর্যন্ত বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিক্সড চার্জও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। কোথাও ১৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা এবং কোথাও ১৭ টাকা থেকে ৭৭ টাকা পর্যন্ত ফিক্সড চার্জ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনের।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এদিন প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করেই সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা বিদ্যুৎ নিগম কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তাঁরা বর্ধিত বিদ্যুৎ মাসুল প্রত্যাহার, লোডশেডিং বন্ধ এবং লো-ভোল্টেজ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে স্লোগান তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সঞ্জয় চৌধুরী। তিনি বলেন, ত্রিপুরার মতো একটি প্রান্তিক রাজ্যে আগাম ঘোষণা ছাড়া বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধি করা অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ। বর্তমানে একদিকে পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্রমবর্ধমান দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া জনগণের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মতামত বা পূর্ব অবগতি ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বর্ধিত মাসুল প্রত্যাহার এবং গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ নীতি গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ঘনঘন লোডশেডিং এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা লো-ভোল্টেজ সমস্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও পরিষেবার মানের তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
পরে সংগঠনের আহ্বায়ক সঞ্জয় চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ নিগমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন দাবিসম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করে, নিগম কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

