আগরতলা, ৫ জুন : বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুক্রবার রাজধানী আগরতলায় এক বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক রেলির আয়োজন করে ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। রেলিতে অংশ নিয়ে বন ও পরিবেশ দফতরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা পরিবেশ রক্ষায় শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র ঘরে ঘরে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অযাচিত ব্যবহার মানবসভ্যতার অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। তাই পরিবেশকে সুস্থ ও বাসযোগ্য রাখতে প্রতিটি পরিবারকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
উল্লেখ্য, পরিবেশ সংরক্ষণে বৈশ্বিক জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ৫ থেকে ১৬ জুন সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয় মানব পরিবেশ বিষয়ক প্রথম বিশ্ব সম্মেলন। ওই সম্মেলনে বিশ্বের ১১৩টি দেশ অংশগ্রহণ করে এবং ‘অনলি ওয়ান আর্থ’ স্লোগানের মাধ্যমে পৃথিবী রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ১৯৭৩ সালে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৭৪ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর বিশ্বের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস।
এদিন সকালে আগরতলায় আয়োজিত রেলিতে বন ও পরিবেশমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ক্লাব এবং পরিবেশপ্রেমী নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষরোপণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার নানা বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করেন।
রেলির অন্যতম আকর্ষণ ছিল পরিবেশকর্মীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অংশগ্রহণকারী একদল পরিবেশকর্মী সমবেত সংগীতের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। তাঁদের গান ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের বিভিন্ন এলাকা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রকৃতি মানবসভ্যতার ধারক ও বাহক। মানুষের উন্নয়নের প্রয়োজনে প্রকৃতির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি হলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও বৃক্ষরোপণ, সচেতনতা শিবির, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং পরিবেশবিষয়ক নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই কর্মসূচিগুলি জনসাধারণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

