iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে ডেপুটি মেডিকেল সুপার পদ নিয়ে বিতর্ক, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সরব বিভিন্ন মহল

ধর্মনগর, ৫ জুন : উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর জেলা হাসপাতালকে ঘিরে ফের একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। হাসপাতালের ডেপুটি মেডিকেল সুপার পদ, বিভিন্ন সমিতির আর্থিক কার্যকলাপ, সরকারি বিল অনুমোদন এবং রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগগুলিকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে বর্তমানে ডেপুটি মেডিকেল সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন ডাঃ সন্ধিপক রায়। অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে ত্রিপুরার অন্য কোনও জেলা হাসপাতালে এই ধরনের পদ কার্যকর নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে কীভাবে এই পদ এখনও বহাল রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের বর্তমান মেডিকেল সুপার ডাঃ ভাস্কর দাসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, রাজ্যের অন্যান্য জেলা হাসপাতালে যেখানে ডেপুটি মেডিকেল সুপার পদ নেই, সেখানে ধর্মনগরে এই পদ বহাল থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

সূত্রের দাবি, অতীতে স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদনের ভিত্তিতে এই পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সে সময় স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বে ছিলেন ডাঃ সুপ্রিয় মল্লিক এবং ধর্মনগরের বিধায়ক ছিলেন প্রয়াত বিশ্ববন্ধু সেন। তবে ওই অনুমোদনের বৈধতা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে পদটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে জেলা অন্ধত্ব নিবারণ সমিতি এবং জেলা অন্ধ বিকলাঙ্গ সমিতির আর্থিক কার্যকলাপ নিয়েও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই দুই সংস্থার তহবিল ব্যবস্থাপনায় লক্ষাধিক টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। সরকারি অনুদান ও বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়গুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ উঠেছে, জেলা অন্ধ বিকলাঙ্গ সমিতির মেম্বার সেক্রেটারি পদে নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল সুপারের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ওই দায়িত্ব পালন করছেন ডাঃ সন্ধিপক রায়। কী প্রশাসনিক নির্দেশ বা অনুমোদনের ভিত্তিতে এই দায়িত্ব তাঁর হাতে ন্যস্ত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বিল অনুমোদন এবং অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত উপভোক্তারা সরকারি আর্থিক সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতালে সরকারি টেন্ডার সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের বিল অনুমোদনের ক্ষমতা মেডিকেল সুপারের হাতে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে ডেপুটি মেডিকেল সুপার পদধারী ডাঃ সন্ধিপক রায় সেই বিল পাস করতেন।

এছাড়াও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে যে, হাসপাতালের চক্ষু রোগীদের বিভিন্ন অজুহাতে ডাঃ সন্ধিপক রায়ের ব্যক্তিগত নার্সিংহোমে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হতো। যদিও এই অভিযোগের স্বপক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বর এবং ধর্মনগর মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্বাস্থ্য দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিভিন্ন মহল।

তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে ডাঃ সন্ধিপক রায় বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসনিক মহল সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *