পেঁচারথল, ৯ মে : উন্নয়নের জোয়ার নিয়ে সরকারের একের পর এক প্রচারের মাঝেও ত্রিপুরার এক প্রত্যন্ত গ্রামে আজও ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাব প্রকট। ঊনকোটি জেলার পেঁচারথল বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মাছমারা ভুবনপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার এখনও উপযুক্ত রাস্তা, পরিশ্রুত পানীয় জল ও নিয়মিত বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
এই গ্রামটি রাজ্যের সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় এবং পরবর্তীকালে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বর্ষাকালে গ্রামের কাঁচা রাস্তা এতটাই কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে যে যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। ফলে অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে কাঁধে করে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদেরও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
গ্রামের বাসিন্দা দিপু সরকার জানান, বহু বছর ধরে তাঁরা এই এলাকায় বসবাস করলেও মৌলিক পরিষেবার অভাব আজও কাটেনি। তিনি বলেন, “রাস্তাঘাটের অভাবে রোগীকে কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। পানীয় জলের কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। নদী, ছড়া ও কাঁচা কুয়োর জল ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, ২০১১ সালে গ্রামে একটি পানীয় জল পরিশোধন প্রকল্প স্থাপন করা হলেও তা আজ পর্যন্ত চালু হয়নি। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি অযত্নে পড়ে থেকে আগাছায় ঢেকে যাচ্ছে। প্রকল্পের আনুষঙ্গিক সরঞ্জামও নষ্ট হওয়ার পথে।
অন্য এক বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন সরকার বলেন, “পরিশ্রুত পানীয় জলের অভাবে জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়নি। একটি মাত্র টিউবওয়েল দিয়ে পুরো গ্রামের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার বিধায়িকা তথা মন্ত্রী গ্রামে এসে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনও উন্নতি হয়নি।
গ্রামের মহিলা বাসিন্দা রাজনন্দিনী চাকমা বলেন, “ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গ্রামে কোনও গাড়ি ঢোকে না। বিদ্যুৎ পরিষেবাও নিয়মিত নয়। এক বছর আগে প্রশাসন পানীয় জলের সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
তিনি জানান, এর আগে গ্রামবাসীরা রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ করেছিলেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাস্তা ও পানীয় জলের সমস্যার সমাধান না হলে পুনরায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা ও জল জীবন মিশনের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল এখনও পৌঁছায়নি এই গ্রামে। সরকারি প্রচারে উন্নয়নের চিত্র যতই উজ্জ্বল হোক না কেন, বাস্তবে ভুবনপুর গ্রামের মানুষ এখনও মৌলিক নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।

