আগরতলা, ৮ মে : ত্রিপুরাকে শিল্পোন্নয়নের নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে উৎপাদনমুখী শিল্পের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। শুক্রবার সচিবালয়েরঅনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন এজেন্সি অফ ত্রিপুরা’ (আইপ্যাট)-এর গভর্নিং বডির বৈঠকে তিনি বলেন, বর্তমান ত্রিপুরা সরকার সম্পূর্ণভাবে শিল্পবান্ধব এবং রাজ্যে শিল্প স্থাপনের জন্য এখন বিরাট সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ বা রাজ্যে শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে, সেখানে উৎপাদনভিত্তিক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ত্রিপুরাতেও স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্প বিকাশের পথ সুগম করতে হবে। তিনি বিশেষভাবে রাজ্যের বাঁশ ও রাবার সম্পদের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই দুই সম্পদকে কেন্দ্র করে বৃহৎ শিল্প গড়ে তোলা গেলে রাজ্যের অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বহু বিনিয়োগকারী ত্রিপুরায় শিল্প স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। রাজ্যে নতুন নতুন শিল্প স্থাপিত হলে যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার যুবক-যুবতীদের দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক এলাকাগুলিতেও শিল্প গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিব ও আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে সাব্রুমের জলেফায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের একাধিক প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ধলাই জেলার কুলাইয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ৫০টি এমবিবিএস আসন বিশিষ্ট একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা বৈঠকে উপস্থিত থেকে শিল্প বিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। বৈঠকের শুরুতে স্বাস্থ্য দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে আলোচ্য বিষয়গুলির উপর বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
মুখ্যসচিব জে কে সিনহা বলেন, ত্রিপুরার বনজ ও স্থানীয় সম্পদকে ভিত্তি করে শিল্প গড়ে তুলতে পারলে সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে। একইসঙ্গে স্থানীয় মানুষকে শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে রাজ্য অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং বৃহত্তর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ভারপ্রাপ্ত সচিব অপূর্ব রায়, সচিব অভিষেক সিং, সচিব মিলিন্দ রামটেকে সহ বিভিন্ন দফতরের সচিব ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

