আগরতলা, ৮ মে : আসন্ন বর্ষা মরশুমকে সামনে রেখে ত্রিপুরায় নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং গণবণ্টন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে খাদ্য দফতর। শুক্রবার রাজধানী আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রেশন ডিলার ও মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, বর্ষাকালে যাতে সাধারণ মানুষকে কোনও ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য এখন থেকেই সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিনের বৈঠকে খাদ্য দফতরের অধিকর্তা সহ দফতরের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত রেশন ডিলার এবং মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। মূলত গণবন্টন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জনমুখী এবং আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বর্ষা মরশুমকে সামনে রেখে খাদ্যশস্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পেট্রোপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা না করতে পারে, সেজন্য প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরিমানাও করা হবে।”
বৈঠকে রেশন ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তুলতে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন রেশন ডিলার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে গণবণ্টন ব্যবস্থা আরও সক্রিয় ও জনবান্ধব হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে প্রত্যন্ত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, রেশন দোকানে নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে চাল সরবরাহ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ধান ক্রয়ের বিনিময়ে যে চাল সংগ্রহ করা হয় তার ৫০ শতাংশ আতপ চাল এবং ৫০ শতাংশ সিদ্ধ চাল সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে যাতে এফসিআই রাজ্য সরকারকে যে চাল সরবরাহ করে, তার পুরোটাই আতপ চাল হিসেবে দেওয়া হয়।
খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, আগামী দিনে রেশনিং ব্যবস্থাকে আরও জনমুখী করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিকেও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

