শিলিগুড়ি, ৬ নভেম্বর (হি.স.) : আলিপুরদুয়ারে শ্যামাপূজার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে শুক্রবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরেই শিল্পবান্ধব পরিবেশের চরম অভাব ছিল। রাজ্যে শিল্পের উপযোগী উপযুক্ত পরিকাঠামো, নগর উন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকার কারণেই এত দিন রাজ্য থেকে মূলধন ক্রমাগত অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছিল। তবে ৪ মে ২০২৬ সালের (নির্বাচনের ফল প্রকাশের) পর থেকে শিল্পপতি, তরুণ উদ্যোক্তা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনে পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে নতুন আশা ও উৎসাহের সঞ্চার ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি অত্যন্ত অনুকূল। রাজ্যের নিজস্ব সমুদ্র উপকূল, নদীপথ, আন্তর্জাতিক সীমানা, অত্যন্ত উর্বর জমি, পর্যাপ্ত পুঁজি এবং বিপুল মেধা রয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিকাশের এক অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং রাজ্যে আগামী দিনে নতুন শিল্প ও কারখানা অবশ্যই গড়ে উঠবে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি গিয়ে বামপন্থী দলগুলির সমর্থন নেওয়া ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টিকে তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষ করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলির যদি এতই শক্তি থাকে, তবে দিল্লি না গিয়ে কলকাতার রাজপথে নেমে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করা উচিত। মহম্মদ সেলিম, অধীর চৌধুরী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের দিল্লি যাওয়ার বদলে তিলোত্তমার বুকেই আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত ছিল। এই আন্দোলনের জন্য অযথা দিল্লি ছোটার কী প্রয়োজন ছিল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
কলকারখানা ও শিল্পাঞ্চলের বাইরে অশান্তি ও তোলাবাজি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের বিষয়ের বিরুদ্ধে আগেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনোরকম বেআইনি তোলাবাজি বা তোলাবাজ সিন্ডিকেট বরদাস্ত করা হবে না। তিনি দাবি করেন, রাজ্য থেকে তথাকথিত ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর অবসান ঘটেছে।
এ ছাড়া, টাটা গোষ্ঠীর রাজ্যে প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যকেও তিনি তীব্র শ্লেষে বিঁধেছেন। মদন মিত্রকে তাঁর জনপ্রিয় কথা ‘ও লাভলি’ বলে সম্বোধন করে শমীক ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, এত দিন পর হঠাৎ কেন টাটাদের চলে যাওয়া নিয়ে তাঁর মনে এমন অনুশোচনা ও আফসোস দেখা দিচ্ছে?
