আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর : বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার আগে ত্রিপুরার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য দফতর। পুজোর দিনগুলিতে চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনও ব্যবসায়ী যাতে অতিরিক্ত দামে সামগ্রী বিক্রি কিংবা কালোবাজারি করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাবে। কালোবাজারি বা অতিরিক্ত দামে সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বৈঠকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে খাদ্য দফতরের উদ্যোগে পুজোর আগে বাজার পরিস্থিতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য দফতরের প্রধান সচিব শান্তনু সিং, দফতরের অধিকর্তা সুমিত লোধ, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক ডাঃ বিশাল কুমার, পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক-সহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার সংস্থার প্রতিনিধি, রেশন শপ ডিলারদের প্রতিনিধি, পেট্রোল পাম্প সংগঠনের প্রতিনিধি, আইওসিএল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরের আধিকারিকরা।
দুর্গাপূজার আর মাত্র ২৫ দিন বাকি। পুজোর সময় সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এই বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি কিংবা কালোবাজারি করতে পারেন বলে আশঙ্কা থাকে। সেই সম্ভাবনা আগেভাগেই রুখতে খাদ্য দফতর এবার পুজোর আগে থেকেই বাজার পরিস্থিতির উপর নজরদারি শুরু করেছে।
এদিনের বৈঠকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুজোর দিনগুলিতে যাতে কোনওভাবেই পণ্যের ঘাটতি তৈরি না হয়, সেজন্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাজারে পণ্যের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয়মূল্যের উপর নজর রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পুজোর মরশুমে চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনও ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করতে পারবেন না। কালোবাজারি, মজুতদারি কিংবা কৃত্রিমভাবে পণ্যের সংকট তৈরির চেষ্টা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ধারিত ও ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতর ও প্রশাসনকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে খাদ্য দফতরের আধিকারিক জানান, পুজোর সময় মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কালোবাজারি ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে পেট্রোল পাম্প সংগঠন এবং অন্যান্য প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও পুজোর দিনগুলিতে রাজ্যের জাতীয় সড়কগুলিতে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও সুগম রাখার দাবি জানানো হয়। পণ্য পরিবহণ এবং জ্বালানি সরবরাহে যাতে কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

