আগরতলা, ১৭ সেপ্টেম্বর।। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন ও জনসেবায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরা রাজ্যেও আজ থেকে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সেবা সংকল্প অভিযানের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। রাজ্যের পুণ্যভূমি মাতাবাড়িতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু কামনা করে পুজো দেন এবং মাতাবাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে আশীর্বাদ কা দিয়া প্রজ্জ্বলন করেন। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত রক্তদান শিবিরও তিনি পরিদর্শন করেন। আশীর্বাদ কা দিয়া অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে মাতাবাড়ির ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরে ১০ হাজার এবং কল্যাণসাগরের চারপাশে ১৫ হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে একটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া রাজ্য গুজরাট উন্নতির শিখরে পৌঁছে গেছে এবং একটি মডেল রাজ্যে উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার গ্রহণের পর তিনি সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়েপড়া মানুষের কল্যাণে অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং সফলভাবে তা রূপায়িত করছেন। যেমন জনধন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, কিষাণ সম্মাননিধি, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, ডিজিটাল ইন্ডিয়া ইত্যাদি। তাঁর নেতৃত্বে ভারত একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। সারা বিশ্বে আজ ভারত নেতৃত্ব প্রদান করছে। তাঁর নেতৃত্বে আফ্রিকান ইউনিয়ন জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে পেরেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জিএসটি চালু হয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হয়েছে। সংখ্যালঘু সমাজের নারীদের সামাজিক সুরক্ষায় তিন তালাকের মতো প্রথা বাতিল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রামজন্মভূমি আন্দোলন সফল করে অযোধ্যায় রামমন্দির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
ভারতের সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক শক্তি, কুটনৈতিক শক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সর্বকালের শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। অপারেশন সিন্দুরে যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই। ভারত তার শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সার্জিকেল স্ট্রাইক করেছে। দেশ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বর্তমানে সুরক্ষিত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী একমাস বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সেবা সংকল্প অভিযানের মাধ্যমে জনগণকে সেবা প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো। তাই মানুষ গণেশ পুজোতে নির্ভয়ে আনন্দ উপভোগ করছেন। পুজোর সংখ্যাও অতীতের তুলনায় বেড়েছে।
আজকের অনুষ্ঠানে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, বিধায়ক অভিষেক দেবরায় বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোমতী জেলার জেলাশাসক রিংকু লাথের। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিত্তে, গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, গোমতী জেলার এস পি অনির্বাণ দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাতাবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শিল্পী দাস।

