আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: রাত পোহালেই সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা। সোমবার গণেশ চতুর্থীকে ঘিরে উৎসবের আমেজে সেজে উঠছে রাজধানী আগরতলা। রবিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মূর্তিপাড়া থেকে গণেশ মূর্তি নিয়ে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়। ছোট-বড় নানা আকারের মূর্তি নিয়ে ব্যস্ত দেখা যায় মৃৎশিল্পী ও মূর্তি ব্যবসায়ীদের। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন বাজারেও দূরদূরান্ত থেকে ক্ষুদ্র মৃৎশিল্পীরা মূর্তি নিয়ে হাজির হয়েছেন।
তবে উৎসবের এই আবহের মধ্যেও কিছুটা চিন্তার ছাপ মৃৎশিল্পীদের মুখে। কারণ, মূর্তি তৈরির পাশাপাশি সাজসজ্জায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আনুষঙ্গিক সামগ্রীর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর গণেশ মূর্তির দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মূর্তির দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে লাভ বাড়ছে না বলে দাবি মৃৎশিল্পীদের।
রবিবার রাজধানীর মূর্তিপাড়াগুলিতে ছিল চূড়ান্ত ব্যস্ততা। সকাল থেকে ক্রেতারা পছন্দের মূর্তি বেছে নিয়ে তা প্যান্ডেল কিংবা বাড়িতে নিয়ে যেতে শুরু করেন। অনেক জায়গায় ছোট আকারের গণেশ মূর্তি নিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। তাঁদের মূর্তির দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ১০০ টাকা থেকে। আকার, সাজসজ্জা ও কারুকার্য অনুযায়ী সেই দাম বেড়ে প্রায় দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
স্থানীয় এক মৃৎশিল্পী জানান, এবছর গণেশ পূজোর সংখ্যা বাড়লেও মূর্তি তৈরির খরচও বেড়েছে। বিশেষ করে মূর্তি সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর কথায়, মূর্তি তৈরির পর সেটিকে সুন্দরভাবে সাজাতে বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সেই সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই মূর্তির দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। তারপরও কাঙ্ক্ষিত লাভ থাকছে না।
মৃৎশিল্পীদের দাবি, গত বছর মূর্তি সাজানোর কাজে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর দাম যেখানে প্রায় ১৪০ টাকা ছিল, এবছর তা বেড়ে প্রায় ২৫০ টাকা হয়েছে। শুধু এই একটি সামগ্রীর দাম বৃদ্ধিই নয়, মূর্তি তৈরির অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং সাজসজ্জার খরচও বেড়েছে। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের উপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানীর বটতলা সহ বিভিন্ন বাজারে এবারও মূর্তি বিক্রির জন্য ভিড় জমিয়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের একজন জানান, গণেশ চতুর্থীকে কেন্দ্র করে বিক্রি মোটামুটি ভালোই চলছে। তবে গত বছরের তুলনায় লাভের পরিমাণ খুব একটা বাড়েনি। বরং আনুষঙ্গিক সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। ফলে মূর্তি বিক্রি হলেও হাতে প্রত্যাশিত লাভ থাকছে না।
গণেশ মূর্তি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাজধানীর ভোলাগিরি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টের জনৈক মহিলা ক্রেতাও একই সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মতো দিন দিন মূর্তির দামও বাড়ছে। মূর্তি তৈরির পাশাপাশি সাজসজ্জার বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তিনি।
এদিকে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্যান্ডেল সাজানোর কাজ। মূর্তি আনার আগেই প্যান্ডেলের মূল কাঠামো, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত ডেকোরেটররা। কোথাও শেষ মুহূর্তের রঙের কাজ, কোথাও চলছে কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে প্যান্ডেল সাজানোর কাজ। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে আলোকসজ্জার প্রস্তুতিও।
রবিবার রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন মূর্তিপাড়া ও বাজারে গণেশ মূর্তি কেনাবেচা এবং প্যান্ডেলে মূর্তি পৌঁছে দেওয়ার ব্যস্ততা অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে সোমবারের গণেশ চতুর্থীকে সামনে রেখে উৎসবের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির চাপ মৃৎশিল্পী ও ক্রেতা—উভয়ের মনেই কিছুটা ছাপ ফেলেছে।

