আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর : আর মাত্র ৪৫ দিন পর বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদোৎসব। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও শুরু হয়েছে তৎপরতা। দেশ-বিদেশের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগরতলায় আগত দর্শনার্থীদের যাতে কোনও ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে আগরতলা পুর নিগম।
আসন্ন শারদোৎসবকে নির্বিঘ্ন, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার আগরতলা পুরনিগমের কনফারেন্স হলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পৌরহিত্য করেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র, মেয়র ইন কাউন্সিলের সদস্যরা, সকল কর্পোরেটর এবং পুর নিগমের বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরা।
দীর্ঘ বৈঠকে দুর্গাপুজোর আগে শহরের পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা এবং প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কার ও মেরামত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নর্দমাগুলির সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পুজোর দিনগুলিতে রাজধানী আগরতলা শহরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আলোকসজ্জার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়ক আলোকিত করার পাশাপাশি পুজোর সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মেয়র।
এদিন বৈঠক শেষে মেয়র দীপক মজুমদার জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও আগরতলায় ‘মায়ের গমন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এই অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলতে কয়েকদিনের মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করেও পুর নিগমের তরফে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মেয়র জানান, আগরতলা শহরের মূল আকর্ষণ দশমী ঘাটকে অন্যান্য বছরের মতো এবারও বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পুর নিগমের বিভিন্ন জোন ও ওয়ার্ডের অধীনে থাকা আরও ১৮টি নিরঞ্জন ঘাট সংস্কার করা হবে। অর্থাৎ দশমী ঘাট-সহ মোট ১৯টি ঘাটকে নিরঞ্জন পর্বের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নিরঞ্জনের সময় যাতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সমস্যা তৈরি না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর থাকবে পুর নিগমের। ঘাটগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন থিম ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে পুজো কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগরতলা পুর নিগম। পুজোর সৌন্দর্য, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, পরিচ্ছন্নতা-সহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ক্লাবগুলিকে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর স্বচ্ছতা পুরস্কারে পুরস্কৃত ক্লাবগুলিকেও অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হবে বলে জানান মেয়র।
সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোর আগে রাজধানী আগরতলাকে সাজিয়ে তুলতে পুর নিগমের তরফে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাস্তা ও নর্দমা সংস্কার থেকে শুরু করে আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরঞ্জন ঘাটের উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শারদোৎসবের দিনগুলিতে আগরতলায় আগত দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে উৎসব উপভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই পুর নিগমের এই প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে।

