আগরতলা, ১২ আগস্ট : জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম ও জাতীয় গৌরবের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও পালিত হচ্ছে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি। বুধবার আগরতলায় উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা র্যালির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। র্যালিটি উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত হয় তিরঙ্গা প্রদর্শনী ও তিরঙ্গা কনসার্ট।
র্যালির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি বর্তমানে দেশের একটি বৃহৎ জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২২ সালে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর অঙ্গ হিসেবে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এই কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম এবং জাতীয় গৌরবের গভীর অনুভূতি সৃষ্টি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা শুধুমাত্র একটি কাপড়ের টুকরো কিংবা কয়েকটি রঙের সমন্বয় নয়। তিরঙ্গা ভারতের স্বাধীনতা, শক্তি, শান্তি ও অগ্রগতির প্রতীক। জাতীয় পতাকার গেরুয়া রং ত্যাগের, সাদা সত্যের এবং সবুজ উন্নতির প্রতীক। পতাকার কেন্দ্রে থাকা অশোক চক্র প্রতিটি ভারতীয়কে সর্বদা এগিয়ে চলার বার্তা দেয়।
তিনি আরও বলেন, ত্রিবর্ণ রঞ্জিত জাতীয় পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহিদের আত্মত্যাগের ইতিহাস। তাই জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ত্রিপুরার সর্বস্তরের মানুষকে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবছর ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির পঞ্চম সংস্করণ দেশজুড়ে ৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তিরঙ্গা র্যালি, তিরঙ্গা প্রদর্শনী, তিরঙ্গা কনসার্ট, জেলা, ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে বাইক ও সাইকেল র্যালি, ত্রিবর্ণ রঞ্জিত আলোকসজ্জা, রঙ্গোলি প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় পতাকার সঙ্গে সেলফি তোলার মতো নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
এবারের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি ভারতের রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। সেই কারণে এবারের কর্মসূচির তাৎপর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
বুধবারের তিরঙ্গা র্যালিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্য মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য, জনপ্রতিনিধি, ছাত্রছাত্রী এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র্যালিকে কেন্দ্র করে শহরে দেশাত্মবোধক আবহ তৈরি হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। বিভিন্ন স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে র্যালি বর্ণাঢ্য রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ, অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়, পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা, সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, যুববিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় এবং মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক মিনারাণী সরকার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে প্রমুখ।
র্যালি শেষে রবীন্দ্রভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিরঙ্গা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। পরে তাঁরা তিরঙ্গা কনসার্ট উপভোগ করেন। সমগ্র আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের বার্তা তুলে ধরা হয়।

