iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

দেড় ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে জলমগ্ন রাজপথ

আগরতলা, ৫ আগস্ট: মাত্র দেড় ঘন্টার বর্ষণেই ফের জলমগ্ন হয়ে পড়ল স্মার্ট সিটি আগরতলা। বুধবার দুপুরে টানা ভারী বৃষ্টিতে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। প্রধান সড়কগুলিতে হাঁটু সমান জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। অফিসযাত্রী, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে পথচারী—সকলকেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ক্ষুব্ধ শহরবাসীর প্রশ্ন, প্রতি বর্ষায় একই চিত্র কেন? জলযন্ত্রণা থেকে কবে মুক্তি মিলবে?

বুধবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া বর্ষণ চলে বিকেল ২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। এরপরও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) আগরতলা কেন্দ্র জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার পাশাপাশি বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ত্রিপুরা সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে রাজধানী আগরতলায় এই ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসক অফিস সংলগ্ন এলাকায় ৮২ মিলিমিটার, এডি নগরে সর্বাধিক ১০০ মিলিমিটার, নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স (সচিবালয়) এলাকায় ৭১ মিলিমিটার এবং লেম্বুছড়ায় ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গোটা পশ্চিম জেলায় এদিন গড়ে ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভারী বর্ষণের জেরে রাজধানীর নাভিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ওরিয়েন্ট চৌমুহনী, শকুন্তলা রোড, বনমালীপুর, পোস্ট অফিস চৌমুহনী, আরএমএস রোড, মধ্যপাড়া-সহ একাধিক এলাকায় জল জমে যায়। বহু রাস্তায় হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে থাকায় ছোট গাড়ি, অটো ও বাইক চলাচল ব্যাহত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

জলাবদ্ধতায় ক্ষুব্ধ শহরবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই আগরতলার একই চিত্র সামনে আসে। স্মার্ট সিটি প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও স্থায়ী জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দ্রুত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, প্রবল বর্ষণের ফলে এদিন তাপমাত্রাও কিছুটা কমেছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে হয়েছে ৩১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবার রাতে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বৃহস্পতিবার পশ্চিম জেলায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা নেই। তবে সিপাহীজলা, গোমতী এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জন্য ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কতা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *