আগরতলা, ৩ আগস্ট : রাজ্যে একের পর এক আর্থিক দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, নেশা দ্রব্যের পাচার, সরকারি জমি দখল, খাদ্য প্রকল্পে অনিয়ম-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে আগামী ৫ আগস্ট থেকে সপ্তাহব্যাপী রাজ্যজুড়ে গণ-অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। দুর্নীতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সমস্ত ক্ষেত্রে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও জানিয়েছে দল।
রবিবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক দাবিকে সামনে রেখে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তিন ঘণ্টার গণ-ধর্না ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে জেলা সদরগুলিতে কর্মসূচি শুরু হবে। পরবর্তীতে মহকুমা সদর এবং জনবহুল এলাকাতেও এই আন্দোলন বিস্তৃত করা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক দুর্নীতি বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে নারীঘটিত অপরাধ, মাদক পাচার, সরকারি জমি দখল, খাদ্যসামগ্রী ও সহ বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ লুট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম চলছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে কয়েকটি ছোটখাটো গ্রেফতারের ঘটনা ঘটিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মূল দুর্নীতির দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিশালগড় এলাকায় প্রায় ৫০০ কানি সরকারি জমি দখল হয়ে গেছে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে জুলাই মাসের কয়েকটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে রাজ্যে ৮টি মৃত্যুর ঘটনা, ৫টি ধর্ষণ, ৩টি যৌন নির্যাতন, ৪৭টি ছিনতাই এবং ২টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন কংগ্রেস মুখপাত্র। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ মূল্যবৃদ্ধির চাপে জর্জরিত হলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই দুর্নীতি, আইন-শৃঙ্খলা, সরকারি প্রকল্পে ব্যয় এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানাচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেস।
প্রবীর চক্রবর্তী জানান, আগামী ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী এই আন্দোলনকে সফল করতে জেলা কংগ্রেস কমিটিগুলি ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিভিন্ন জেলায় মিছিল, পথসভা ও প্রচার কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আন্দোলনের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হচ্ছে। দলের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন জনস্বার্থের ইস্যুতে সরকারকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো সম্ভব হবে।

