আগরতলা, ২৩ জুলাই: আগরতলা পুর নিগমের মতোই ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) এলাকাতেও রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের কাজ করার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তাঁর বক্তব্য, “জনতা জনার্ধন”—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখেই সব স্তরে টিম হিসেবে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার আগরতলায় স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আগরতলা পুর নিগমের একাধিক প্রকল্প ও পরিকাঠামোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি নগরবাসীর সুবিধার্থে ‘সবুজ সেনা’ প্রকল্প, ‘আমার আগরতলা’ মোবাইল অ্যাপ, চান্দিনামুড়ায় নির্মিত ট্রান্সফার স্টেশন, অটো হুপার-সহ একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহারের জন্য ৫১টি তিন চাকার যানবাহনের ফ্ল্যাগ-অফ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, পুর কমিশনার সাজু ওয়াহিদ, নগর উন্নয়ন দফতরের অধিকর্তা তপন মজুমদার-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ২১টি নগর সংস্থা রয়েছে এবং প্রতিটি সংস্থার মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এই প্রতিযোগিতা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কর্মনিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করেন। তাঁর কাজের গতি ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যের জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকেও কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য ব্যক্তিগত নয়, দলগত বা টিমভিত্তিক কাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁদের উন্নয়নমূলক কোনও কর্মসূচি নেই। শুধু মিছিল, স্লোগান এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েই তাঁরা ব্যস্ত থাকে। অথচ মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ এখন এসেছে। তাই রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগরতলা কিংবা অন্যান্য নগর সংস্থার মতো টিটিএএডিসি এলাকাতেও একইভাবে সমন্বয় ও সহযোগিতার ভিত্তিতে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে শেষ কথা জনগণই। তাই “জনতা জনার্ধন”-কে সামনে রেখেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
তিনি বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ক্লাব এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতাও সমানভাবে প্রয়োজন। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং নাগরিক পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।
অনুষ্ঠানের শেষে নবসংযোজিত ৫১টি তিন চাকার বর্জ্য সংগ্রহকারী যান বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাগ-অফ করা হয়। এর মাধ্যমে শহরের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে বলে প্রশাসনের আশা।

