ধর্মনগর, ২৩ জুলাই : রাজ্যের বেহাল সড়ক ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরের কালিকাপুর এলাকায় বিকল্প জাতীয় সড়ক (এনএইচ-২০৮) অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হয় প্রদেশ কংগ্রেস ও উত্তর জেলা কংগ্রেস। যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় জাতীয় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে দিতে অস্বীকার করায় প্রায় ৭০ জন কংগ্রেস নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে পুলিশ।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজ্যের সড়ক, বেহাল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, কালিকাপুরের বিকল্প জাতীয় সড়কটি সম্প্রতি নির্মিত হলেও কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা চয়ন ভট্টাচার্য, নিরুপম দে, ইন্দ্রজিৎ পাল-সহ অন্যান্য নেতারা বলেন, বর্তমানে আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত সড়ক ছাড়া রাজ্যের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। এক সময় ত্রিপুরার উন্নত সড়ক ব্যবস্থা নিয়ে গর্ব করা হলেও এখন পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে প্রতিবেশী অসমের কাছাড় জেলার সড়ক ব্যবস্থার সঙ্গেও তুলনা করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাও ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
বিক্ষোভস্থল থেকে কংগ্রেস নেতৃত্ব আরও দাবি করেন, বিকল্প জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ করলেও সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। ফলে নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁরা বলেন, জনগণের স্বার্থেই কংগ্রেস রাজপথে নেমেছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
অবরোধের জেরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধর্মনগর থানার পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। আন্দোলনকারীদের বারবার অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ধর্মনগরের ডেপুটি কালেক্টর অ্যান্ড ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসিএম) জীনপ্রসাদ বড়ুয়া জানান, সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হওয়ায় প্রশাসন আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। কিন্তু তাঁরা রাজি না হওয়ায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৭০ ধারায় আনুমানিক ৭০ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের পুলিশ রিজার্ভের ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে মুক্তি দেওয়া হয়।
আটকের সময় আন্দোলনকারীরা ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দিতে দিতে স্বেচ্ছায় গ্রেফতার বরণ করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা থাকলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
অন্যদিকে প্রশাসন দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও কংগ্রেস নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ্যের ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ এবং দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

