আগরতলা, ৬ জুলাই : ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (টিবিএসই) পরিচালিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষা সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে। রাজ্যের মোট ২৬টি পরীক্ষা কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাধ্যমিকে ৭৫৬ জন এবং উচ্চমাধ্যমিকে ১,৫৭০ জন পরীক্ষার্থী এবার বছর বাঁচাও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
রাজধানী আগরতলায় কামিনী কুমার মেমোরিয়াল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কড়া নিরাপত্তা ও পর্ষদের নির্ধারিত সমস্ত নিয়ম মেনেই পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সোমবার আগরতলায় কামিনী কুমার মেমোরিয়াল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ডঃ ধনঞ্জয় গণচৌধুরী। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, রাজ্যের সবকটি পরীক্ষাকেন্দ্রেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, মাধ্যমিকের ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষা আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা শেষ হবে ১৪ জুলাই। মাধ্যমিকে পাঁচটি বিষয় এবং উচ্চমাধ্যমিকে সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনেও পর্ষদের নির্দেশিকা অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই কেন্দ্রে উচ্চমাধ্যমিকের ১৫০ জন এবং মাধ্যমিকের ৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জানান, পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা চলছে। প্রশাসন ও পর্ষদের সহযোগিতায় কোনও ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়নি।
পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পশ্চিম জেলার পাঁচটি, ধলাই জেলার ছয়টি, উত্তর ত্রিপুরা জেলার চারটি এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার তিনটি বিদ্যালয়ে ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষার কেন্দ্র করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলিতেও একইভাবে পরীক্ষা চলছে।
উল্লেখ্য, যেসব পরীক্ষার্থী নিয়মিত পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁদের শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতেই প্রতিবছর এই ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষার আয়োজন করে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। সফল পরীক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন।

