তেলিয়ামুড়া, ৪ এপ্রিল : ত্রিপুরার খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার মুঙ্গিয়াকামি এলাকায় শনিবার হাতির আক্রমণে জনৈক বৃদ্ধার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জাতীয় সড়ক অবরোধে সামিল হলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে মুঙ্গিয়াকামি আরডি ব্লকের অধীনস্থ রামকৃষ্ণ টিটিএএডিসি গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী মণিমালা দেববর্মা বুনো হাতির আক্রমণে প্রাণ হারান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাটি রাজ্যের একমাত্র এলিফ্যান্ট করিডোরের সংলগ্ন হওয়ায় প্রায়ই বুনো হাতির আনাগোনা দেখা যায়। ওই রাতেও একাধিক বুনো হাতি জনবসতিতে ঢুকে পড়ে এবং তাণ্ডব চালায়, যার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা।
এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সকালে মৃতদেহ নিয়ে এসে তাঁরা অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অবরোধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বহু যাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহন রাস্তায় আটকে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বন দফতরের গাফিলতির কারণেই এ ধরনের ঘটনা বেড়ে চলেছে। তাঁদের দাবি, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ বারবার বিপদের মুখে পড়ছেন। সংকটের সময় বন দফতরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা, যার মধ্যে ছিলেন এসডিএম এবং এসডিএফও। তবে সেখানে গিয়ে তাঁরা ক্ষুব্ধ জনতার তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন। উত্তেজিত জনতা তাঁদের ধাওয়া করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় তিপ্রা মথা দলের কিছু কর্মী-সমর্থকও তাঁদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ স্থানীয় বন দফতরের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
তেলিয়ামুরার এসডিপিও রোহন কিশন জানান, একাধিক দফায় আলোচনার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের বোঝানো সম্ভব হয়েছে এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন টিটিএএডিসি নির্বাচনের প্রার্থী তথা তিপ্রা মথা দলের নেতা উৎপল দেববর্মা। তিনি মৃতার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় দুই সাংবাদিক—হিরন্ময় রায় ও নরেন চক্রবর্তী—বিক্ষোভকারীদের হেনস্তার শিকার হন। অভিযোগ, নরেন চক্রবর্তীকে মারধর করা হয় এবং তিনি আহত হন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

