iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

‘রাহুল গান্ধীর ভোট বাঁচাও যাত্রা আসলে অনুপ্রবেশকারী বাঁচাও যাত্রা’, উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেসকে তোপ অমিত শাহের

দেহরাদুন, ৭ নভেম্বর : কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ভোট বাঁচাও যাত্রা’কে ‘অনুপ্রবেশকারী বাঁচাও যাত্রা’ বলে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার উত্তরাখণ্ডের ২৬তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দেহরাদুনের প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত রাজ্যোৎসবের মঞ্চ থেকে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। অথচ রাহুল গান্ধী সেই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে যাত্রা করছেন। দেশের মাটিতে অনুপ্রবেশ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

একই সঙ্গে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরাখণ্ডে বিজেপির আসনসংখ্যা ৬৫ পেরোনোর লক্ষ্য স্থির করে শাহ ঘোষণা করেন, রাজ্যে পরপর তৃতীয়বার সরকার গড়বে বিজেপি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতি, শুক্রবারের নমাজের জন্য ছুটির প্রস্তাব আনা এবং রামমন্দির নির্মাণের বিরোধিতা করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

শাহের বক্তব্য, উত্তরাখণ্ড গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কংগ্রেস। অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী ২০০০ সালের ৯ নভেম্বর পৃথক রাজ্য গঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন। তিনি বলেন, অটলজি উত্তরাখণ্ড তৈরি করেছিলেন, আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি রাজ্যকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ করছেন। উত্তরাখণ্ড কেবল একটি রাজ্য নয়, দেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার অন্যতম কেন্দ্র বলেও মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাবা কেদারনাথ, বদ্রীবিশাল, মা গঙ্গা ও যমুনার উৎসস্থল, হেমকুণ্ড সাহিব এবং হরিদ্বারের মতো তীর্থক্ষেত্র উত্তরাখণ্ডকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর কথায়, মোক্ষের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এই দেবভূমিতে আসেন। রাজ্য গঠনের আন্দোলনে রামপুর তিরাহা-সহ বিভিন্ন জায়গায় যাঁরা লড়াই করেছিলেন, তাঁদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান তিনি। পাশাপাশি মাধো সিং ভাণ্ডারী, তিলু রৌতেলি, গবর সিং নেগি, দরবান সিং নেগি এবং জেনারেল বিপিন রাওয়াতের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অবদানও স্মরণ করেন।

রাজ্যোৎসবকে গৌরব, সাফল্য ও নতুন সংকল্পের উপলক্ষ বলে বর্ণনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী ধামির নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা সাফল্যের পরিচয়। এবার লক্ষ্য, ২০৪৫ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার যাত্রায় উত্তরাখণ্ডকে দেশের প্রথম উন্নত রাজ্যে পরিণত করা।

রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরে শাহ জানান, ২০২২ সাল থেকে উত্তরাখণ্ডের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিএসডিপি) ৫০ শতাংশ বেড়েছে। মাথাপিছু আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ শতাংশ। তাঁর দাবি, অর্থনীতির বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাও সরকারের লক্ষ্য।

সমান নাগরিক বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করার ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ডকে দেশের প্রথম রাজ্য বলে উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর দাবি, এই বিধির মাধ্যমে বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অভিন্ন আইনি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের উদাহরণ অনুসরণ করে দেশের আরও ১৫টি রাজ্য ইউসিসি কার্যকরের পথে এগিয়েছে বলেও জানান তিনি। বিজেপি দেশের সব রাজ্যে এই বিধি চালুর পক্ষে। রাজ্যে কোনও সুপারিশ বা অর্থের লেনদেন ছাড়াই ৩৫ হাজার যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ধর্মান্তর বিরোধী আইনকেও রাজ্য সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

মহিলাদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ এবং সমবায় সমিতিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করেন শাহ। পাশাপাশি তিন লক্ষ ‘লখপতি দিদি’ গড়ে তোলা, হোমস্টে প্রকল্প এবং মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। রাজ্য আন্দোলনকারীদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং শহিদদের পরিবারকে দেওয়া অনুদান ১০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। কিচ্ছায় এইমসের স্যাটেলাইট কেন্দ্র এবং শিল্প স্মার্ট সিটিকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাহাড়ের জল ও যুবশক্তিকে পাহাড়ের কাজে না লাগানোর নীতি অনুসরণের অভিযোগ তোলেন শাহ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন উত্তরাখণ্ডকে মানি অর্ডার নির্ভর অর্থনীতি ও মানুষের বাইরে চলে যাওয়ার সমস্যার মধ্যে ফেলে রেখেছিল কংগ্রেস। বিজেপি সরকার সেই পরিস্থিতি বদলে শিল্পনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগে এই গ্রামগুলিকে দেশের শেষ গ্রাম হিসেবে দেখা হলেও প্রধানমন্ত্রী মোদী সেগুলিকে দেশের প্রথম গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা সামনে এনেছেন বলে জানান তিনি। ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ কর্মসূচিতে ২৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫১টি সীমান্তবর্তী গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজের উল্লেখ করে শাহ বলেন, এর ফলে স্থানীয় যুবকদের গ্রামে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, অতীতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সীমান্ত এলাকায় রাস্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ আটকে রাখা হত। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ার স্ট্রাইক ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত কঠোর পদক্ষেপ করেছে এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করেছে।

বিজেপি সরকারের গত দশ বছরের শাসনে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন শাহ। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস সরকারের আমলের হরিদ্বার স্টিং-কাণ্ড, তফসিলি জাতি ও উপজাতি পড়ুয়াদের বৃত্তি কেলেঙ্কারি, আবগারি নীতি নিয়ে বিতর্ক এবং কুমায়ুনে খাদ্যশস্য সংক্রান্ত কথিত দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। বিজেপি সরকার সরকারি প্রকল্পের অর্থ সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলেও দাবি করেন। হলদ্বানিতে ২৯ একর জমি জবরদখলমুক্ত করার কথা উল্লেখ করে শাহ জানান, বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। উত্তরাখণ্ডের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

পরপর তৃতীয়বার সরকার গঠনের প্রসঙ্গে শাহ অসম, গুজরাট, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, গোয়া ও মহারাষ্ট্রে বিজেপির টানা তিনবার ক্ষমতায় ফেরার উদাহরণ দেন। এবার উত্তরাখণ্ডেও সেই লক্ষ্য পূরণের ডাক দেন তিনি। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ৫৭টি আসন এবং ২০২২ সালে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪৭টি আসন পেয়েছিল বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২৭ সালের নির্বাচনে ৬৫-র বেশি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর আহ্বান জানান তিনি। উত্তরাখণ্ডকে নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার তিনটি লক্ষ্যও তুলে ধরেন।

এদিনের রাজ্যোৎসব অনুষ্ঠানে ১,৪৭৫ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ১৫ জনকে ‘উত্তরাখণ্ড গৌরব সম্মান’, ছ’জন শিশুকে ‘বাল বীরতা পুরস্কার’ এবং দু’জনকে আজীবন কৃতিত্বের সম্মান দেওয়ার কর্মসূচিও ছিল। মঞ্চে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় টামটা, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ মহেন্দ্র ভট্ট, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দলের প্রবীণ নেতাদের অভিবাদন জানান শাহ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *