iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

বিজেপি মণ্ডল সভাপতিকে মারধর ও খুনের হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার ও তাঁর ভাই

ঝাড়গ্রাম, ৬ নভেম্বর : বিজেপি মণ্ডল সভাপতিকে প্রকাশ্যে মারধর, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফের গ্রেপ্তার হলেন শাসকদল ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার তথা নেতা বিপ্লব গোস্বামী এবং তাঁর ভাই পলাশ গোস্বামী। বুধবার রাতে ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় থানার পুলিশ দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় মহলে ধৃত বিপ্লব গোস্বামী প্রাক্তন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার ধৃতদের ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে বিনপুর-১ ব্লক অফিস চত্বরে বিভিন্ন সরকারি বিল সংক্রান্ত কাজে গিয়েছিলে বিপ্লব গোস্বামী ও তাঁর ভাই পলাশ গোস্বামী। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিনপুর-৩ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, দেবাশিসবাবুকে দেখতে পেতেই দুই ভাই তেড়ে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই আকস্মিক হামলায় আহত দেবাশিসবাবুকে প্রথমে লালগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। পরবর্তীতে তিনি লালগড় থানায় উপস্থিত হয়ে বিপ্লব ও পলাশের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়েরের খবর পেতেই দুই অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় বিনপুর থানার দহিজুড়ি এলাকায় স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা তাঁদের পথ আটকে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। খবর পেয়ে বিনপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই অভিযুক্তকে উদ্ধার করে। পরে লালগড় থানায় দায়ের হওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতেই বিপ্লব গোস্বামী ও তাঁর ভাই পলাশ গোস্বামীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, ধৃত বিপ্লবের ভাই পলাশ গোস্বামী ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের একজন কনস্টেবল পদে কর্মরত এবং তিনি জেলা পুলিশ লাইনে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ বালি খাদান থেকে জোরপূর্বক তোলাবাজির একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় অবাধে তাণ্ডব চালিয়ে আসছেন বিপ্লব গোস্বামী। এর আগেও গত ২৩ জুলাই এক বিজেপি বুথ সভাপতির ওপর হামলার অভিযোগে লালগড় থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিছুদিন আগেই জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। বুধবার ফের এক বিজেপি মণ্ডল সভাপতিকে মারধর ও খুনের হুমকির ঘটনায় তাঁদের গ্রেপ্তারের জেরে পুরো এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অন্যদিকে, ধৃতদের আইনজীবী সায়ক ভদ্র দাবি করেছেন, “এঁদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।” আদালত আগামী ৭ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “আইনের ওপরে কেউ নয়—সে যে দলেরই নেতা হোক না কেন, কিংবা যত বড় নেতারই ঘনিষ্ঠ হোক না কেন। আইন সকলের জন্য সমান। গোস্বামী পরিবারের কেউ একজন নিজেকে প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে বিডিও অফিসে গিয়ে আমাদের দলের কর্মীর গায়ে হাত তুলছে, মারপিট করছে! ওদের মনে রাখা উচিত, রাজ্যে আইনের শাসন চলছে। আপনারা যদি ভদ্রভাবে বাঁচতে চান, তবে গণতন্ত্রের ওপর ভরসা রাখুন এবং বাহুবলী রাজনীতি বর্জন করুন। বিডিও অফিসে ঢুকে মারপিট করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? আপনারা বিগত দিনে সরকার চালিয়ে রাজ্যটাকে লুটেপুটে খেয়েছেন এবং সাধারণ মানুষকে শোষণ করেছেন। হয় ভালো মানুষ হয়ে বাঁচুন, নচেৎ আইন ও জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।”

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *