তেলিয়ামুড়া, ২ অক্টোবর : দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। তেলিয়ামুড়া থেকে উত্তর মহারানী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। কৃষ্ণপুর, মাইগঙ্গা, উত্তর মহারানি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই সড়কটির উন্নয়নে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সড়কটির নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার যেমন উন্নতি হবে, তেমনি স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল সড়কের কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের। বিশেষ করে বর্ষাকালে রাস্তার বিভিন্ন অংশে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ত। গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথটির উন্নয়নের দাবি স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে জানানো হচ্ছিল। অবশেষে সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর গুণগত মান নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। নির্মাণকাজে কোনও ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার যাতে না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে সরকারি ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্টের অনুপস্থিতিতে ঠিকাদার সংস্থার কর্মীদের রাস্তার সাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ করতে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নজরে আসার পর জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, সরকারি ইঞ্জিনিয়ার অথবা ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্টের উপস্থিতি এবং যথাযথ তদারকির মধ্যেই রাস্তার নির্মাণকাজ করতে হবে। কারণ সরকারি নজরদারি ছাড়া কাজ হলে ভবিষ্যতে নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণে কাজের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার উত্তর মহারানিপুর এলাকায় যাওয়ার পথে ফের নির্মাণকাজের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। রাস্তার পাশে সাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ চলতে দেখে তিনি গাড়ি থামিয়ে দেন। এরপর কাজের অগ্রগতি এবং সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের উপস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। এদিন ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্টের উপস্থিতিতেই সাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ চলছিল বলে জানা যায়।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে যে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার সুফল যাতে দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকেই প্রশাসনের নজর রয়েছে।
আসন্ন দুর্গাপুজোর কথা মাথায় রেখেও এদিন বিশেষ নির্দেশনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পুজোর আগে যাতে এই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রাস্তার যেসব অংশে দ্রুত সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলির কাজ পুজোর আগেই সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় তাঁরা আশাবাদী। রাস্তা উন্নত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ হবে না, কৃষ্ণপুর, মাইগঙ্গা ও উত্তর মহারানি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত যাতায়াত, বাজারমুখী মানুষের চলাচল এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এখন প্রশাসনের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাজের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখা। সরকারি ইঞ্জিনিয়ার ও ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্টের নিয়মিত তদারকিতে কাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের এই সড়ক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলেই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

