iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

ত্রিপুরায় ৮ জনকে ‘রাহবীর’ পুরস্কার, প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা ও শংসাপত্র

আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর: সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে মানবিকতার অনন্য নজির গড়েছেন ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলার আটজন নাগরিক। তাঁদের সাহসিকতা ও মানবিক উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ বুধবার রাজ্য রোড সেফটি কাউন্সিলের বৈঠকে ‘রাহবীর’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রত্যেক পুরস্কারপ্রাপককে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার এবং শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।

পরিবহণ দফতরের উদ্যোগে বুধবার রাজ্য রোড সেফটি কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে, অর্থ সচিব প্রশান্ত গোয়েল, আরবান সচিব মিলিন্দ রামটেকে, এসপি ট্রাফিক কান্তা জাঙ্গীর, পরিবহণ দফতরের কমিশনার-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা।

অনুষ্ঠানে গোমতী জেলার পাঁচজন, ধলাই জেলার দু’জন এবং ঊনকোটি জেলার একজনকে ‘রাহবীর’ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন গোমতী জেলার কাজল দেবনাথ ও প্রসেনজিৎ ভৌমিক (যুগ্মভাবে), অশেষ দাস, খুরশিদ মিয়া এবং অজিত দাস। ধলাই জেলার সত্যজিৎ কুমার শীল ও সত্য রঞ্জন দেবনাথ এবং ঊনকোটি জেলার লতিকা সিনহা।

সড়ক দুর্ঘটনার পর সাধারণত প্রথম এক ঘন্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই সময়ের মধ্যে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে পারলে তাঁর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু অতীতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা আইনি হয়রানির আশঙ্কায় অনেক সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনাগ্রস্তদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে দ্বিধা করতেন।

পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যাতে ভয় বা দ্বিধায় পিছিয়ে না যান, সে লক্ষ্যেই ‘রাহবীর’ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তিকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের পুলিশি বা আইনি হয়রানি করা যাবে না। আগে আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

মন্ত্রী আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা মোকাবিলা ও দুর্ঘটনাগ্রস্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হল ‘রাহবীর’ পুরস্কার। আগে এই উদ্যোগটি ‘গুড সামারিটান’ নামে পরিচিত ছিল।

এদিন পুরস্কারপ্রাপক আটজনের প্রশংসা করে পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা, ভয় ও দ্বিধার কথা না ভেবে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের উদ্ধারে এগিয়ে এসেছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে তাঁরা মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের এই উদ্যোগ অন্য সাধারণ মানুষকেও দুর্ঘটনাগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই ‘রাহবীর’ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। সরকারের মতে, দুর্ঘটনার সময় সাধারণ মানুষের দ্রুত এবং দায়িত্বশীল হস্তক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রেই একটি জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *