iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানের মধ্যেই পেট্রোল পাম্পে ভিড়, নেওয়া হচ্ছে ড্রামে ভরে, কালোবাজারির আশঙ্কা

আগরতলা, ১৪ মে : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ত্রিপুরার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাজ্যের একাধিক এলাকায় গাড়ির দীর্ঘ সারির পাশাপাশি ড্রাম ও বড় পাত্রে করে পেট্রোল ও ডিজেল সংগ্রহের ঘটনাও সামনে এসেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে এবং পেট্রোপণ্যের সম্ভাব্য কালোবাজারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতির জেরে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি দেশবাসীর প্রতি জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানান। একই বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে বুধবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকাও জারি করা হয়।

রাজ্য সরকারের বিশেষ সচিব একে ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি দফতরগুলিতে অফিস চলাকালীন সময়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বাকি ৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে যাবেন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হিসেবে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি বজায় রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে।

কিন্তু সরকারি আহ্বানের পরই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। রাজধানী আগরতলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহকুমা এলাকায় বহু যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। বিশেষ করে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বোধজংনগর থানাধীন বনিক্য চৌমুহনী এলাকায় কিছু ব্যক্তি ড্রামভর্তি করে পেট্রোল ও ডিজেল সংগ্রহ করছেন—এমন দৃশ্য দেখা দিয়েছে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এ ধরনের জ্বালানি সংগ্রহের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষের কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফেও নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়নি। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে জ্বালানি মজুত করা হতে পারে।

তথ্যভিজ্ঞ মহলের মতে, ড্রামে করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা কালোবাজারির ইঙ্গিত বহন করে। যদি দ্রুত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ না বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কে ফেলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন মহল থেকে প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে। পেট্রোল পাম্পগুলিতে নজরদারি জোরদার করা, অস্বাভাবিক পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা এবং কালোবাজারির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখবে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে অযথা আতঙ্ক ও অসাধু চক্রের সুযোগসন্ধানী তৎপরতা রোধ করা যায়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *