আগরতলা, ১০ মে : রবিবারের ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে একটু আনন্দ করতে বেরিয়েছিল ১৬ বছরের কিশোর হিরণ দেবনাথ। কে জানত, সেই বেরোনোই হবে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা! হাসিমুখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর জীবিত ফিরে আসা হল না দশম শ্রেণির এই ছাত্রের। নন্দননগরের সেনপাড়ার একটি পুকুরে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তাঁর। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে জিবি ৭৯ টিলার জ্যোতির্ময় কলোনি।
মৃত কিশোর হিরণ দেবনাথ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তাঁর বাবা হরিদাস দেবনাথ পেশায় একজন অটোচালক। সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। পড়াশোনা করে বড় হয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে— এই আশাতেই দিন গুনছিলেন বাবা-মা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে মুহূর্তের মধ্যে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ কয়েকজন বন্ধু বাইকে করে হিরণকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। তাঁরা নন্দননগরের সেনপাড়ার একটি পুকুরে স্নান করতে যায়। আনন্দের মাঝেই হঠাৎ ঘটে বিপর্যয়। সাঁতার কাটতে কাটতে আচমকা জলের নিচে তলিয়ে যায় হিরণ। বন্ধুরা প্রথমে নিজেরাই তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করে। কিন্তু কোথাও না পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার তল্লাশির পর পুকুরের গভীর জল থেকে উদ্ধার করা হয় হিরণের দেহ। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই খবর পৌঁছতেই জ্যোতির্ময় কলোনির বাড়িতে নেমে আসে কান্নার রোল। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাবা হরিদাস দেবনাথ। প্রতিবেশীরা জানান, হিরণ ছিল অত্যন্ত ভদ্র, শান্ত ও মেধাবী ছাত্র। সকলের সঙ্গে হাসিমুখে মিশে যেত। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও প্রিয় ছিল সে। তাঁর অকাল প্রয়াণে বিদ্যালয়, বন্ধু মহল এবং গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিকেলে ময়নাতদন্তের পর হিরণের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে ভিড় জমান আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা। মায়ের বুকফাটা কান্না আর বাবার নিথর দৃষ্টি উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। যে ছেলেটিকে ঘিরে পরিবারের অসংখ্য স্বপ্ন ছিল, সেই কিশোর আজ নিথর দেহে শায়িত।
এক নিমেষে থেমে গেল একটি সম্ভাবনাময় জীবনের পথচলা। পুকুরের শান্ত জলে হারিয়ে গেল এক কিশোরের সব স্বপ্ন, আর রেখে গেল অসীম শোক, কান্না ও অপূরণীয় শূন্যতা।

