আগরতলা, ১০ মে : গান, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করল রবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী উমাকান্ত একাডেমি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। শনিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের উপস্থিতিতে কবিগুরুকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি, সমবেত সংগীত এবং নাট্য পরিবেশনা। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
এদিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত রচনা ‘জুতা আবিষ্কার’-এর মঞ্চায়ন। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনয় দক্ষতা ও উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যাপক রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য উমাকান্ত একাডেমির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯১৯ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন ত্রিপুরার মহারাজা বীরেন্দ্র কিশোর মানিক্যের আমন্ত্রণে বিশ্বকবি এই বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক সফর আজও রাজ্যের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি বলেন, “উমাকান্ত একাডেমিতে বিশ্বকবির পদার্পণ আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বিদ্যালয় সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। আমরা গর্বিত যে, এমন একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হতে পেরেছি।”
বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালও একই সুরে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শ, মানবতাবোধ ও সৃষ্টিশীল চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা শুধু সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয় না, বরং নিজেদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশেরও সুযোগ পায়।
উল্লেখ্য, ২৫ বৈশাখ উপলক্ষ্যে সারা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উদযাপন করে। উমাকান্ত একাডেমির এদিনের অনুষ্ঠান সেই উদযাপনে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

