আগরতলা, ৮ মে : অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন অগ্নি নির্বাপক দফতরে চাকরিপ্রার্থীরা। হঠাৎ করেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর লক্ষ্মীনারায়ণবাড়ি রোডে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে রাস্তায় বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ব্যাপক যানজটেরও সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের চ্যাংদোলা করে গাড়িতে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায়।
জানা গেছে, রাজ্য সরকারের অগ্নি নির্বাপক দফতরের বিভিন্ন পদে নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন কর্মপ্রার্থীরা। শুক্রবার আচমকাই তাঁরা সংগঠিত হয়ে মিছিল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে হাজির হন। সেখানে বসে তাঁরা দ্রুত ইন্টারভিউ ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে তাঁরা অগ্নি নির্বাপক দফতরের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হন। কিন্তু পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়। পরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত ইন্টারভিউ ও মৌখিক পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তাঁরা।
এক আন্দোলনকারী বলেন, “বছরের পর বছর আমরা অপেক্ষা করছি। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার পরও নিয়োগ পাচ্ছি না। সরকার আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে। তাই বাধ্য হয়েই আজ রাস্তায় নামতে হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ এবং সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। পুলিশ আধিকারিকরা দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ চালিয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়। বেশ কয়েকজনকে কার্যত চ্যাংদোলা করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীনারায়ণবাড়ি রোডে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। অফিস টাইমে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবরোধের জেরে সাধারণ মানুষকেও ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের মতো অতি সুরক্ষিত এলাকায় হঠাৎ করে কর্মপ্রার্থীদের মিছিল পৌঁছে যাওয়া নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা নজরদারি সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে পৌঁছে বিক্ষোভ দেখাতে সক্ষম হলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

