iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

হাইকোর্টের নির্দেশে মনোনয়ন জমার সময় বাড়ছে না, স্পষ্ট করলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার

আগরতলা, ৭ নভেম্বর : ত্রিপুরার ২১টি পুর ও নগর সংস্থার সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ত্রিপুরা হাইকোর্টের নির্দেশের ফলে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনও প্রশ্নই নেই বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ডঃ পিকে চক্রবর্তী। একই সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে কমিশনের কোনও খামতি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনার জানান, হাইকোর্টের নির্দেশে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনক্ষণ বৃদ্ধির বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনী নির্ঘন্ট অনুযায়ীই পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে চলবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, আসন্ন নগর সংস্থার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পাঁচটি নগর সংস্থায় বিরোধী বামফ্রন্টের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করতে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে ত্রিপুরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। রাজ্য বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে অভিযোগ করেন, মোহনপুর, জিরানিয়া, রানিরবাজার, কমলপুর এবং শান্তিরবাজারে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছিল শাসকদলের দুষ্কৃতীরা। এর ফলে বিরোধী দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

মানিক দে-র অভিযোগ, বিষয়টি রাজ্য নির্বাচন কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহা নির্দেশককে জানানো হলেও তাঁদের তরফে প্রয়োজনীয় কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন বামফ্রন্টের প্রার্থীরা।

এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনেই রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহা নির্দেশককে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় ত্রিপুরা হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশকে ঘিরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়। বিশেষ করে পাঁচটি নগর সংস্থায় বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে না পারার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

তবে শনিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ডঃ পিকে চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হাইকোর্টের নির্দেশের সঙ্গে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধির কোনও সম্পর্ক নেই। কমিশনের তরফে মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলবে বলেই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট অনুযায়ী শনিবার থেকেই দাখিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলির পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। কোন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং কারও মনোনয়নে কোনও ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ এই সংক্রান্ত সর্বশেষ রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগরতলা পুর নিগম-সহ রাজ্যের মোট ২১টি নগর সংস্থার সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সর্বমোট ১১০৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এই মনোনয়নপত্রগুলি দাখিল করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৮৭৯ জন প্রার্থী।

দলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির পক্ষ থেকে সর্বাধিক ৪৬৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিপিআই(এম), তাদের মনোনয়নপত্রের সংখ্যা ৩৫৯টি। জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জমা পড়েছে ২৩২টি মনোনয়নপত্র। এছাড়া তিপ্রা মথা দলের ১৫টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে ৩৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

নগর নির্বাচনকে ঘিরে একদিকে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে আদালতের হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থান—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পাঁচটি নগর সংস্থায় মনোনয়নপত্র দাখিল নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *