কলকাতা, ৭ নভেম্বর : কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে গভীর রাতে হামলা, ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোর অনুমতি বাতিল এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি বিজেপি সরকার ও দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আগামীকাল কালীপুজো ও দীপাবলি। আর কাল গভীর রাতে, ঠিক দুটো-তিনটের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হামলা চালানো হলো। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের চেনা এলাকা। এখান দিয়েই মা কালীর বহু প্রতিমা ও শোভাযাত্রা যায়। কেন এভাবে উৎসবের মুখে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে? যদি বুলডোজার চালানোর এতই সাহস থাকে, তবে ভোর তিনটের সময় গুন্ডাবাহিনী সঙ্গে নিয়ে কালীপুজোর উৎসবে আক্রমণ করতে আসা কেন? এখানে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দলের কাজ পরিচালনা করছি, আর ওরা পরিকল্পিতভাবে এসে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।”
একইসঙ্গে স্থানীয় পুজোর অনুমতি প্রত্যাহার নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের এলাকার যে ঐতিহ্যবাহী ও দীর্ঘদিনের পুজো রয়েছে, সেগুলির অনুমতি বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে এবং বেছে বেছে নতুন পুজোকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গতকাল রাতে স্থানীয় ক্লাবগুলিকে স্বাভাবিক কাজ করতে পর্যন্ত পুলিশ বাধা দিয়েছে। আমরা জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডি’ জোটের শরিক, ঠিক সেই আক্রোশ থেকেই এই সব চক্রান্তমূলক আচরণ চালানো হচ্ছে।”
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “সাধারণ মানুষের জন্য হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) মিলছে না, কোর্ট স্ট্যাম্প মিলছে না। অথচ এসব প্রয়োজনীয় জিনিস সরাসরি বিজেপি পার্টি অফিস থেকে বিলি করা হচ্ছে! আমি সবাইকে দোষারোপ করছি না, কিন্তু যিনি এখন বাংলাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনিই এই বিপুল অর্থের জোগান দিচ্ছেন। সেই টাকার জোরে পুলিশকে ব্যবহার করে ভোটার পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নিজেরাই ফর্মগুলিতে সই জাল করে জমা দিয়ে দিচ্ছে। রাজ্যে এক চরম অরাজকতা ও গুন্ডারাজ চলছে।”
