আগরতলা, ৪ অক্টোবর : সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার ও আগরতলা পুর নিগমের যৌথ উদ্যোগে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। এই উন্নয়ন কর্মযজ্ঞকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। রবিবার আগরতলা পুর নিগমের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্মিত জি+১ ক্যাটাগরির ওয়ার্ড কার্যালয়ের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডটি আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র তথা এলাকার কর্পোরেটর মনিকা দাস দত্তের নির্বাচনী কেন্দ্র। এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত সহ পুর নিগমের অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকরা।
নবনির্মিত ওয়ার্ড কার্যালয়ের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের দৈনন্দিন পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ার্ড অফিসগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় দ্রুত সমাধানের জন্য স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আগরতলা পুর নিগম এলাকায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত হয়ে থাকা জলাশয়গুলিকে চিহ্নিত করে পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কারের পর এসব জলাশয়কে নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল ও বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র দালানকোঠা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব এবং নাগরিকবান্ধব আগরতলা গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। জনপ্রতিনিধি, পৌরকর্মী এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন।
নাগরিক পরিষেবাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করে তোলার ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ব্যবহার বাড়িয়ে মানুষের হয়রানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সুবিধা পান, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদারও আগরতলা পুর নিগমের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক পরিষেবার মান উন্নত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকার কর্পোরেটর তথা ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্তও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও নাগরিক পরিষেবা প্রসারে নতুন ওয়ার্ড কার্যালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নতুন কার্যালয় থেকে এলাকার বাসিন্দারা আরও সহজে বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা ও সমস্যার সমাধান পেতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও নতুন ওয়ার্ড কার্যালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে আগরতলা শহরের সার্বিক উন্নয়নে সরকার ও পুর নিগমের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

