ধর্মনগর, ২৯ সেপ্টেম্বর : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সাম্প্রতিক অভিযোগ ও প্রচারের প্রতিবাদে ধর্মনগরে সাংবাদিক সম্মেলন করল বিজেপি। মঙ্গলবার উত্তর ত্রিপুরা জেলা বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তোলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভানেত্রী অপর্ণা নাথ, সহকারী সভাধিপতি ভবতোষ দাস, জেলা সাধারণ সম্পাদিকা রুপালি অধিকারী এবং জেলা মহিলা মোর্চার সভানেত্রী নির্জলা দাসসহ অন্যান্য দলীয় নেতৃত্ব।
বক্তারা বলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এর পাল্টা বক্তব্যে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো উচিত নয়।
তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও বিষয়ে অভিযোগ থাকলে রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রচারের পরিবর্তে সরকারি নির্দেশিকা, ভোটার তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
বিজেপি নেতৃত্ব আরও বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে কোনও অভিযোগ সামনে আনার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি যাচাই করা উচিত। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন বা তার শীর্ষ আধিকারিককে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা অনুচিত বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন বিরোধী দল এসআইআর প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের অবস্থানকে সমর্থন করে বিরোধীদের অভিযোগের বিরোধিতা করা হচ্ছে।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে বিজেপি নেতৃত্ব সাধারণ মানুষকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে যাচাই না করে কোনও ধরনের প্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। সরকারি নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে মতামত তৈরির আবেদন জানান তাঁরা।

