আগরতলা, ১২ আগস্ট : দিল্লি সফর শেষে রাজ্যে ফিরে আসার পর আসন্ন টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। দিল্লি অবস্থানকালে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আসন্ন ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে জোট গঠন নিয়েও কথাবার্তা চলছে বলে স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দিল্লি থেকে রাজ্যে ফিরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। বুধবার ত্রিপুরা হকার্স ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিল্লি সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে অবহিত করা প্রয়োজন। সেই কারণেই তাঁর দিল্লি সফর। দিল্লিতে অবস্থানকালে দলের সাংগঠনিক বিষয় থেকে শুরু করে কার্যনির্বাহী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংগঠনিক বিষয় এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসন্ন টিটিএএডিসির ভিলেজ কমিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট নিয়েও কথাবার্তা চলছে। তবে এখনও আলোচনার পর্ব সম্পূর্ণ হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে এলেই তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ কী হতে পারে, কোন দল বা দলের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে—তা নিয়ে এখন থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আলোচনার ফলাফল সামনে না আসা পর্যন্ত জোটের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, সবকিছু ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই এগুবে।
অন্যদিকে, রাজ্যে বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ওঠানামা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিমান সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে বিমান সংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর বিষয়টি এখন আর সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নেই বলে জানান তিনি। বিমান সংস্থাগুলি মূলত ব্যবসায়িক বিষয় এবং যাত্রী চাহিদার কথা বিবেচনা করেই বিভিন্ন রুটে বিমান সংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তবে ত্রিপুরায় বিমান পরিষেবা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রীও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিমান যোগাযোগ যাতে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
ফলে একদিকে টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য জোটের সমীকরণ, অন্যদিকে রাজ্যের বিমান পরিষেবা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ—দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

