শীঘ্রই আগরতলা থেকে চলবে বন্দে ভারত : মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ৪ জুলাই : উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগে নতুন সংযোজন হিসেবে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল আগরতলা-করিমগঞ্জ-আগরতলা মেন লাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (মেমু) ট্রেন পরিষেবা। আগরতলা রেল স্টেশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সবুজ পতাকা নেড়ে এই পরিষেবার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই আগরতলা থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনও চালু হবে, যা রাজ্যের রেল যোগাযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, বিধায়িকা মীনারানি সরকার, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক সুনীল নোহানি-সহ প্রশাসন ও রেল বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরার রেল পরিষেবার দীর্ঘ পথচলার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৬৪ সালে ধর্মনগরে প্রথম মিটারগেজ ট্রেন চলাচল শুরু হয়। পরে ২০০৮ সালে আগরতলা পর্যন্ত মিটারগেজ রেললাইন সম্প্রসারিত হয়। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব গ্রহণের পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আগরতলা-করিমগঞ্জ রুটে আধুনিক বৈদ্যুতিক মেমু ট্রেন চালু হল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করছে। তিনি জানান, আগরতলা থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিষেবা শুরু হবে।
পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, এতদিন আগরতলা-করিমগঞ্জ রুটে ডিজেলচালিত ট্রেন চলাচল করলেও এখন থেকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনচালিত মেমু ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছে। নতুন ট্রেনে অতিরিক্ত চারটি কোচ সংযোজন করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩,৬০০ জন যাত্রী এই রুটে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। এতে যাত্রীদের যাত্রা আরও আরামদায়ক, দ্রুত এবং পরিবেশবান্ধব হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “অ্যাক্ট ইস্ট” নীতির ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে। গত ১২ বছরে দেশে প্রায় ৬৯ হাজার কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ হয়েছে। ত্রিপুরা, মিজোরাম, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ-সহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যকে উন্নত রেল যোগাযোগের মাধ্যমে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আরও সুদৃঢ়ভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে “এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত” গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে।
নতুন মেমু ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় আগরতলা ও করিমগঞ্জের মধ্যে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে। যাত্রীরা জানান, বৈদ্যুতিক মেমু ট্রেন চালু হওয়ায় যাতায়াত আরও নিরাপদ, আরামদায়ক ও সময়সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু হলে ত্রিপুরার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

