আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর : ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর অন্তর্গত ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। ভোটগ্রহণ পর্বে বিভিন্ন অভিযোগ এবং পুনঃভোটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আগামী ৫ অক্টোবর ভোট গণনার সময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানান।
বুধবার আগরতলায় জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, শাসক দলের রাজনৈতিক চাপের কারণে বর্তমান নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদয়পুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় যে ঘটনাগুলি ঘটেছে, সেগুলি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে মোট ৭৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিআরপিএফ-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে এই বাহিনীকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে বহিরাগতদের প্রবেশ কিংবা ভোটকেন্দ্র দখলের মতো অভিযোগের ঘটনা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।
রিপোলিং বা পুনঃভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, কোনও কেন্দ্রে নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ না হলে সেখানে পুনঃভোট হওয়া উচিত। তবে তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের পক্ষ থেকে প্রায় ১০টি কেন্দ্রে পুনঃভোটের দাবি জানানো হলেও কমিশন সেগুলিকে একই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, ধলাই জেলার কমলপুর মহকুমা এবং খোয়াই জেলার কল্যাণপুর ব্লকের কয়েকটি কেন্দ্রে শাসক দলের একাংশের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ছাপ্পা ভোট দেওয়া এবং বিরোধী দলের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, অন্য একটি রাজনৈতিক দলের দাবির ভিত্তিতে কয়েকটি কেন্দ্রে পুনঃভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিরোধীদের উত্থাপিত অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশন একই ধরনের পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সকল রাজনৈতিক দলের অভিযোগ ও দাবিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। এখন আগামী ৫ অক্টোবর ভোট গণনা হবে। তাই গণনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেন কোনও ধরনের দুর্বলতা না দেখায়। গণনাকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি তাদের যথাযথভাবে ব্যবহার করারও দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভোট গণনার ক্ষেত্রে সমস্ত নিয়ম ও বিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ভোটাররা যে রায় দিয়েছেন, গণনার মাধ্যমে সেই জনরায়ই যেন সঠিকভাবে প্রকাশ পায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। গণনাকেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের উপস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও কমিশনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

