আগরতলা, ২০ জুন : আষাঢ় মাসে জামাইষষ্ঠী পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়লেও, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন রাজধানী আগরতলায় ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত। তাঁর মতে, ষষ্ঠী পূজা সম্পূর্ণরূপে তিথিনির্ভর একটি ধর্মীয় আচার এবং এর সঙ্গে নক্ষত্র বা মাস পরিবর্তনের কোনও অমঙ্গলজনক সম্পর্ক নেই।
শনিবার রাজ্যজুড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয় জামাইষষ্ঠী। বাঙালি সমাজের অন্যতম জনপ্রিয় পারিবারিক লোকাচার হিসেবে পরিচিত এই উৎসব মূলত জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালিত হয়ে আসছে। তবে পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী এ বছর ষষ্ঠী তিথি আষাঢ় মাসে পড়ায় অনেকের মধ্যেই সংশয় তৈরি হয়। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে ‘আষাঢ়ের ষষ্ঠী শুভ নয়’, ‘ষষ্ঠীর জল মাথায় দেওয়া যাবে না’, ‘বায়না প্রদান করা অনুচিত’—এ ধরনের নানা প্রচার ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়।
এই প্রসঙ্গে লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ির প্রধান পুরোহিত বলেন, “ষষ্ঠী একটি তিথি। ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী তিথির ভিত্তিতেই পূজা-পার্বণ নির্ধারিত হয়। এর সঙ্গে নক্ষত্রের কোনও প্রভাব নেই। তাই আষাঢ় মাসে ষষ্ঠী পড়েছে বলে পূজা বা আশীর্বাদে কোনও বাধা নেই। অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও নিয়ম মেনেই ষষ্ঠী পূজা সম্পন্ন করা যায় এবং তা সম্পূর্ণ মঙ্গলজনক।”
তিনি আরও বলেন, সমাজে প্রচলিত বহু লোকবিশ্বাসের সঙ্গে শাস্ত্রসম্মত বিধানের পার্থক্য রয়েছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
এদিকে জামাইষষ্ঠী উপলক্ষ্যে এদিন সকাল থেকেই আগরতলার লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ি মন্দিরে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে বহু মহিলা ষষ্ঠী পূজা দিতে মন্দিরে উপস্থিত হন। তাঁরা সন্তান, পরিবার ও সমাজের কল্যাণ কামনায় পূজা-অর্চনা করেন এবং দেবদেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
মন্দিরে উপস্থিত জনৈক ভক্ত মহিলা জানান, “ষষ্ঠী পূজা বাঙালিদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিন শাশুড়িরা জামাইকে নিমন্ত্রণ করে আশীর্বাদ দেন এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন। আমার ছেলে রয়েছে। মন্দিরে পূজা দেওয়ার পর বাড়িতে গিয়ে নিয়ম মেনে তাঁকে ষষ্ঠী দেব এবং তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করব।”
পূজাকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ির শিব মন্দিরেও ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। অনেক মহিলাকে শিবলিঙ্গে দুধ ও জল নিবেদন করতে দেখা যায়। ভক্তদের বিশ্বাস, ভগবান শিবের আশীর্বাদে সংসারের অশান্তি দূর হয় এবং পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। তাই শিবের কাছে পরিবার, সমাজ ও সন্তানের মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন তাঁরা।
সার্বিকভাবে বলা যায়, আষাঢ় মাসে জামাইষষ্ঠী পড়া নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে এদিন পুরোহিতদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শাস্ত্রসম্মত নিয়মে পালন করাই মুখ্য—এই বার্তাই উঠে এসেছে লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ি মন্দিরের পূজা ও ভক্তসমাগমের মধ্য দিয়ে।

